
এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এস.এস.সি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বেশ বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এক হাজার ৭১৭ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৬৭ জন।
শতকরা গড় পাসের হার ৫৬.৩২। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪০ জন। উপজেলার সাতটি মাদরাসা থেকে ২৫৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১৮৮ জন। শতকরা পাসের হার ৭২.৮৭। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র তিন জন।
ফল বিপর্যয়ের কারণ নির্ণয় এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সদস্য, প্রধান শিক্ষক, বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংগ্যজাই মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ায়ী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন সফিক আলেয়া। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল হোসেন।
এ সময় সংশ্লিষ্টরা ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য দু:খ প্রকাশ করেন। কারণ হিসেবে তারা বেশকিছু বিষয় উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে ফলাফল ভালো করার জন্য বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধও জানান তারা।
সভায় জানানো হয়, বিপর্যয় ঘটনা উল্লেখযোগ্য স্কুলগুলোর মধ্যে শাহপীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের গড় পাসের হার ৪১.৯৪। মনিয়ন্দ উচ্চ বিদ্যালয় ২৭.২৭%, ছয়ঘরিয়া শাহ আলম উচ্চ বিদ্যালয় ১৯.৫০%, নুরপুর রুটি উচ্চ বিদ্যালয় ৪০.০০%, ভাটামাথা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ২৮%।
বক্তারা বলেন, ‘ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ অনেককে নানা চাপে ফাইনালে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াটা অন্যতম কারণ। এছাড়া পরিচালনা কমিটির তদারকির অভাব এবং প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বের ব্যর্থতাও দায়ী।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট, ছাত্র, শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, শিক্ষার্থীদের অমনোযোগিতা এবং পাঠদানে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবও রয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের মধ্যে আভ্যন্তরীন দ্বন্দও দায়ী।’
সভায় ফলাফল ভালো করার জন্য বেশ কিছু প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, পরিচালনা কমিটির তদারকি বাড়ানো, প্রদান শিক্ষককে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা, শিক্ষকদের পাঠদানে আন্তরিকতা, নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ করা, বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করা, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল ছাত্রছাত্রীদের ফাইনালে অংশ গ্রহণের সুযোগ না দেওয়া ইত্যাদি। এসব বিষয়ে দ্রোত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও আলোচনা হয়।