
ক্লিনিকের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিক মালিক মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু ও তার ছেলে মোত্তাকিম বিল্লাহ সাফিনের হামলার স্বীকার হলেন মেহেরপুরের দুই সাংবাদিক।
লাঞ্ছিত সাংবাদিকরা হলেন, দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার সাংবাদিক; মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের গণযোগাযোগ সম্পাদক এ সিদ্দিকী শাহীন ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সাংবাদিক এবং মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক মাসুদ রানা।
অভিযুক্ত মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং হোটেল বাজার এলাকার মৃত আব্দুর রবের মাষ্টারের ছেলে।
শুধু হামলায় নয় কেড়ে নেওয়া হয় সাংবাদিক এ সিদ্দিকী শাহীনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে।
হামলার সময় ক্লিনিকের ভাড়াটিয়া ক্যাডাররা বিল্লার সাথে ছিলো। এসময় হৈ চৈ শুনে পাশের ভবন মেহেরপৃর জেলা প্রেসক্লাব থেকে সহকর্মীরা ছুটে এসে তাদের হাত থেকে আক্রান্ত দুই সাংবাদিককে ছিনিয়ে নেন।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ এসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটি মোতাচ্ছিম বিল্লাহ ফেরৎ দিতে বাধ্য হন।
এ ঘটনার সকল ভিডিও ফুটেজ ও ছবি মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবে সংরক্ষিত রয়েছে। মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাব গতকাল বুধবার বেলা ১১ টার সময় এক জরুরী বৈঠকে মিলিত হন।
সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পেশাদারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরণের অশুভ, অপশক্তির বিরুদ্ধে সকল সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের লেখনির মাধ্যমে মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর।
এব্যাপারে দৈনিক জবাবদিহির সাংবাদিক এ সিদ্দিকী শাহীন বলেন, আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইল দিয়ে দু/একটা ছবি তোলার পরেই মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু এসে আমার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন।
শুধু মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেননি। সে আমার কলার ধরে রাস্তা থেকে তার ক্লিনিকের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আমার সহকর্মিরা এসে তার কাছ থেকে আমাকে মুক্ত করেন।
আক্রান্ত অপর সাংবাদিক দৈনিক আমাদের অর্থনীতির পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মাসুদ রেজা বলেন, সাংবাদিকরা যেকোনো স্থানের ছবি তুলতে পারে।
কিন্তু মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু আমাদের সাথে যে আচরণ করেছেন সেটা কোনো সভ্য মানুষ করতে পারেনা। এ ব্যপারে মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চান্দু বলেন, আমি খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হলে ক্লিনিক মালিক মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু তার পূর্ব অভ্যাসমত আমাকেও গালাগালি শুরু করেন।
মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মেয়র মতু’র যে আস্ফালন, স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হুমকীর মুখে ফেলবে।
কোনো সাংবাদিক তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি চড়াও হন এবং সাংবাদিককে চাঁদাবাজ অখ্যায়িত করে হুমকি দিয়ে থাকেন। মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম ক্লিনিকের বাইরের দৃশ্য ধারণের কারনে সাংবাদিক এ সিদ্দিকী শাহীনের মোবাইল কেড়ে নেয়া ও মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চান্দুর ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি প্রকৃত হামলাকারীদের আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচারে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি দাবি করেন। হামলাকারীদের আটক করে আইনের আওতায় না আনা হলে আমরা মেহেরপুরের সাংবাদিকরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
মেহেরপুর সদর থানার এস আই সঞ্জিব ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্লিনিক মালিক পক্ষকে নিবৃত করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।