প্রকাশ: বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩, ১:৩১ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই প্রবাসীর বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে বিটেস্বর ইউনিয়নের কাদিয়ারভাঙ্গা গ্রামের শরীফ আখন্দ ও রুহুল আমিনের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলের দেশিয় অস্ত্রের আঘাতে দুই জন আহত হয়েছেন।
ডাকাতরা নগদ টাকা স্বর্ণ অলংকার সহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পুলিশ বুধবার সকালে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
রুহুল আমিনের মা জাহানারা বেগম জানান, আমার ৫ ছেলের ৪ জনই বিদেশে থাকে। বড় ছেলে রুহুল আমিনও ইউরোপ যাওয়ার কাজে ঢাকায় ছিল। এই সুযোগে সোমবার রাত দেড়টার দিকে ১৫-২০ জনের ডাকাত দল গেটের তালা ও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। অস্ত্র দেখিয়ে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হাত-পা-মুখ বেঁধে জিম্মি করে ৫টি রুমের আলমারি ভেঙে ফেলে ডাকাতরা। বড় ছেলে রুহুল আমিনের বউকে চাবির জন্য মারধর করে তারা।
চাবি দিয়ে দিলে আলমারিতে থাকা ১৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ১০ লাখ টাকা ৮টি মোবাইলসেটসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আমার বড় ছেলের বউকে মারধর করে। পরে দুইজন আমাদের দরজায় দাড়িয়ে থাকে এবং কোন চিৎকার চেচামেচি করতে না করে।
পরে জানতে পারি আমাদের পাশের আমেরিকা প্রবাসী আরিফদের বাড়ীতেও ডাকাতি করে।
প্রবাসী আরিফের ভাই শরীফ আখন্দ জানান, রাতে দরজার সিটকিনি ভেঙ্গে মুখোশ পড়া ৭-৮ জনের ডাকাতদল দালানের ভিতর ডুকে আমার মা এবং স্ত্রীকে বলে টাকা স্বর্ণ বের করে দিতে। না দেয়ায় আমার ১২ বছরের মেয়েক অন্য রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষনের হুমকি দেয় এবং আমার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে।
পরে ভাইয়ের পাঠানো ৩ লাখ টাকা আমার স্ত্রী বের করে দেয়। মায়ের কাছে থাকা ৮০ হাজার টাকা ও প্রায় দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, কানের জিনিস নিয়ে যায় ডাকাতরা।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর ভূঞা বলেন, ডাকাতির ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ডাকাতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ মাঠে কাজ শুরু করেছে।