
সারাদেশের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ টাউন ক্লাব মিলনায়তনে ঘরোয়া পরিবেশে জনসমাবেশ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে অধীনস্ত আদালত এবং সরকারি অবজ্ঞা, গায়েবী মামলার নির্বিচার গ্রেপ্তার, মিথ্যে মামলা ও পুলিশি হয়রানি, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধোগতি, বিদুৎতের লোডশেডিং, আওয়ামী সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে শনিবার (২০ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ার কিন্তু অত্যন্ত টলমলে। এখন শুধু ঝাঁকি দেওয়া বাঁকি। ভালো করে একটি ঝাঁকি দিলেই এ সরকারের পতন হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে বসে দিন রাত কাজ করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক, তিনি ঘুমাননা। তিনি সব সময় অন্য রাষ্টে বাংলাদেশের মানুষের নির্যাতনের কথা বলেন। আর এর ফল কিন্তু শেখ হাসিনা পেয়েছেন। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর সব দেশে ঘুরে এলেন। তিনি দেখেছেন শুধু বাংলাদেশের নয়। পৃথিবীর কোনো দেশের মানুষ তাকে চাইনা।
এ দেশে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হত্যা, খুন সহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ হয়েছে। তা বিশ্বে তুলে ধরেছেন এক মাত্র ব্যাক্তি তিনি তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বলছি আপনি দুইবার ভোট চুরি করে ক্ষমতায় রয়েছেন, তবে আর না। আপনার শেষ সময় এসেছে। কারণ আপনি একটা ভোট চোর এটা সারা বিশ্বে এখন উদয়মান হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আপনি মানুষের কান্না আপনি শুনতে পাননা। কিন্তু আমরা শুনতে পায়। তাই আপনার পতন হবে। আপনার বিচার হবে গণ আদালতে। যদি আপনারা মারা যান। গণ আদালতের বিচারের আগে। তবে আপনাদের কঙ্কালের ফাঁসি হবে।
আর বেশিদিন সময় লাগবে না। সময় এসে গেছে। টলমল গদি, আমাদের হতে হবে শক্তিশালী। শেখ হাসিনা আপনাকে বলতে চাই, হত্যা, গুম, খুন, অত্যাচার, জুলুম অনেক করেছেন। যা ইচ্ছে তাই করেছেন, মানুষের হাহাকার কান্না আপনি শুনতে পান না। কিন্তু আমরা শুনতে পাই। আপনার এই অপরাধের বিচার হবে গণআদালতে। এদেশের মানুষ আপনার বিচার করবে। এমনকি আ.লীগ নেতাদের যদি কারো মৃতুও হয়, তাহলেও আপনাদের কঙ্কালের ফাঁসি দেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। এদেশের মানুষের আপনাদের ছাড়বে না।
লালু বলেন, জুলুম করে আমাদের মাথার উপর বসে আছে আওয়ামী লীগ সরকার। আমাদেরকে হারিয়ে যাওয়া গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশে চলমান হত্যা, গুম, খুন বন্ধ করতে হবে। বাজারে গিয়ে মানুষ কাঁদে, অনেকেই খেতে পারছে না। মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। এসব জুলুম নির্যাতন রোধ করার এখনি মোক্ষম সময়। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সকলকে প্রস্তত থাকতে হবে।
শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট দিতে হবে। কথায় কথায় ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্বাবধায়ক সরকার নাকি কোনদিনও আসবে না। কেন আসবে না? আপনারা ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছে এই তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে। শ্রীলঙ্কার রাজনীতিবিদদের মতো আপনাদের অবস্থা করবে দেশের মানুষ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম জাকারিয়া ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।