রাজশাহী সিটি নির্বাচনকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা
নজরুল ইসলাম জুলু, রাজশাহী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩, ৬:৪৫ পিএম

আগামী ২১ জুন ২০২৩ অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীতে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রচারণা করার বিধান থাকলেও প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই প্রচারণা চালিয়ে আসছে তফসীল ঘোষণার পর থেকেই।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, রাজশাহীতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৩ মে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মহানগরীর এলাকাগুলো হয়ে উঠেছে রমরমা। পাড়া-মহল্লায় চলছে টানটান উত্তেজনা। 

মেয়র পদপ্রার্থীদের মধ্যে শক্তিশালী কোনো প্রার্থী না থাকায় মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশি উত্তেজনা কাজ না করলেও কাউন্সিলর নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহানগরীর কোনো কোনো  ওয়ার্ডে নতুন পুরনো প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে  লক্ষ্যনীয় রেষারেষি। দলীয় ও ব্যক্তিগত কোন্দলের কারণে ঐসব ওয়ার্ডগুলোতে বিশৃঙখলার আশংকা রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাড়া মহল্লায় গড়ে তোলা হয়েছে 'টিনের প্রচার ঘর'।ঘর গুলোতে রাত ২/৩টা অব্দি চলছে আড্ডা। 

এলাকায় এলাকায় চলছে শো-ডাউন। শো-ডাউনে ও প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে খুন, মাদক, ছিনতাই, চুরি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের সাথে যুক্ত অপরাধীরা। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাড়া মহল্লা গুলোতে বহিরাগতদের আনাগোনাও ব্যাপাক বেড়েছে। 

মেয়র পদ কে ঘিরে কোনো উৎকণ্ঠা বা লক্ষ্যনীয় প্রতিযোগিতা না থাকলেও কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে আশঙ্কা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনকে ঘিরে পাড়া মহল্লায় যতটা পুলিশের টহল ও নজরদারি প্রয়োজন তা করা হচ্ছে না। 

ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে কয়েকটি ওয়ার্ডে বিশৃঙ্খলঅ,  অস্ত্র প্রদর্শন তথা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। প্রতীক বরাদ্দের পূর্বেই এবং প্রচারণার অনুমতি ব্যাতিত কিছু কাউন্সিলর পদ প্রার্থীরা নানান কৌশলে এলাকায় প্রচারণা করছেন। 

এইসমস্ত প্রচারণায় কিছু প্রার্থী দাগী অপরাধীদের ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় এলাকায় ইতোমধ্যেই শুরু হয়েগেছে টাকা, ক্ষমতা আর পেশীশক্তির লড়াই।

সম্প্রতি কয়েকটি  ওয়ার্ডে মারামারি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার সকল তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেও প্রশ্ন উঠেছে নগরবাসীর মনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।

তবে পুলিশের দাবি নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০টি ওয়ার্ডের পাড়া মহল্লায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল একজন পুলিশ কর্মকর্তা এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, এই নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি রির্পোট পাঠানো হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে।

তিনি আরো বলেন, "মেয়র ভোটে কোন সমস্যা নেই। তবে নতুন পুরনো ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের  মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষর আশংকা রয়েছে।"

মহানগররীতে খুন, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ইদানীং বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে রাতভর সন্দেহজনক লোকজনের চলাচল ও আড্ডাবাজি । তবে সে তুলনায় পুলিশি টহল ও নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। 

এ ব্যাপারে আরো সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আশঙ্কা রয়েছে মহানগরীর আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির। রাজশাহী মহানগরীর শান্তশিষ্ট পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনবান্ধব পরিবেশের জন্য প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নজরদারি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, তারা সব বিষয় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা সর্বক্ষণ সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন যাতে নগরীতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft