কলাপাড়ায় দরিদ্রদের কাজের তালিকায় মেম্বরের নাম
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০২৩, ১২:৪৭ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের (ইজিপিপি) আওতাধীন ৪০ দিনের কর্মসূচিতে রাস্তার কাজে শ্রমিকের তালিকায় নিজের, স্ত্রী ও ভাইয়ের নাম তালিকাভুক্ত ছাড়াও খনন যন্ত্র দিয়ে কাজ করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩ ইউপি সদস্যেও বিরুদ্ধে। 

এ নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন বঞ্চিতরা। অভিযুক্তরা হলেন-উপজেলার ধুলাস্বার ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুর ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিক হাওলাদার এবং ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কুলসুম আক্তার।

জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ধুলাস্বার ইউনিয়নের চর-গঙ্গামতির বাদলের বাড়ি থেকে ফরেস্ট অফিস হয়ে পাকা রাস্তার মাথা পর্যন্ত এবং কাউয়ারচর বটতলা থেকে সাগরপাড় পর্যন্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্পের আওতায় দরিদ্রদের দিয়ে কাজ করানোর কথা। যার বরাদ্দ ২০ লাখ টাকা। 

কিন্তু শ্রমিকের তালিকায় প্রকল্পের সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিক হাওলাদার তার নিজের নাম, স্ত্রী মরিয়ম বেগম ও ছোট ভাই কবির হাওলাদারের নাম দিয়েছেন। 

তবে বেশ কিছু দিনমজুরের নাম তালিকায় থাকলেও তারা জানেই না ওই কাজ তাদের করার কথা কিংবা তালিকায় তাদের নাম আছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাস্তা দু’টি ৪-৫ মাস আগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যরা খননযন্ত্র দিয়ে রাস্তার পাশ থেকে বালু তুলে মেরামত করেছে। 

তবে এটা যে নতুন কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সে খবর কেউ জানতো না। তালিকা হাতে পাওয়ার পর সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সুবিধাভোগীর তালিকায় ৫১ নম্বরে থাকা পাপিয়া বলেন, ৬-৭ মাস আগে মহিলা মেম্বার একজন সিম বিক্রেতাকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়ি আসেন। 

আমার হাতের টিপসই নিয়ে বলেন, সিমে কৃষি কাজের টাকা আসবে। সিমটি পরে দিয়ে যাব। এরপর আর কোনো খোঁজ-খবর নেই। এখন শুনি সেই নামে আমরা নাকি দৈনিক ৪০০ টাকা বেতনে কাজ করেছি। 

এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’ ৭ নং ওয়ার্ডের একাধিক কৃষকরা বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র মেম্বাররা চাইলে দিয়ে দেই। এখন শুনি আমরা রাস্তায় কাজ করে জনপ্রতি ১৬ হাজার টাকা করে পেয়েছি। 

অথচ আমরা এর কিছুই জানি না, সঠিক তদন্তপূর্বক আমরা এ দূর্নীতির বিচার চাই।’ সুবিধাভোগীর তালিকায় ৫৫ নম্বরে থাকা সুজন নামের এক কৃষক বলেন, ‘এ রাস্তা গত কয়েকমাস আগে ভেকু দিয়ে করানো হয়েছে। 

এটা এলাকার সবাই দেখেছে অথচ এখন দেখি এখানে নাকি আমি কাজ করেছি। শুধু আমিই না, এলাকার অনেক অসহায় মানুষের নাম দিয়ে টাকা তুলে নিয়েছে মেম্বাররা। 

আমরা ডিসির কাছে অভিযোগ দিয়েছি। সাধারণ গরিব মানুষকে ঠকানোর সঠিক বিচার চাই।’ ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রাস্তার মাটি কাটার সময় কিছু জায়গায় পানি থাকার কারণে আমরা অল্প কিছু কাজ ভেকু দিয়ে করিয়েছি। 

তবে তালিকায় আমার, আমার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের নাম আমি দেইনি। ইউনিয়ন পরিষদের কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এ নামগুলো দিয়েছে। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি।’

৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুর ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার কাজ কিছু ভেকু দিয়ে আর কিছু শ্রমিক দিয়ে করানো হয়েছে। সবাই মাটি কাটার কাজ করে না তাই আমরা নামে-বেনামে তালিকা করেছি। কারা অভিযোগ করেছে তা জানা নেই।

এ বিষয়ে প্রকল্পের সদস্য সচিব ও মহিলা মেম্বার কুলসুম আক্তার বলেন, এ কাজে একটু অনিয়ম হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ নয়। যেখানে মাটি ছিল না সেখানে ভেকু দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। আর আমি কাজের কাছে ছিলাম না, দুই মেম্বার ছিল। 

আমার নামে সিম আনার কথা মিথ্যা। তবে যারা এগুলো বলছে তারা আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ। ধুলাস্বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম বলেন, আমি সব সময় কাজের কাছে থাকতে পারিনি। 

তবে কাজ মোটামুটি হয়েছে দেখে স্বাক্ষর করেছি। তবে এখানে অনিয়ম হয়েছে। কিছু জায়গায় পানি থাকার কারণে ভেকু দিয়ে কাজ করেছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ কাজ অতিদরিদ্রদের জন্য।

কোনোভাবেই ভেকু দিয়ে করার সুযোগ নেই। দায়িত্বে যারা ছিল তারা যদি অনিয়ম করে থাকে তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  পটুয়াখালী  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft