প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩, ৫:৩৪ পিএম

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় স্কুলছাত্রী মুক্তি বর্মনকে। পড়ালেখার পাশাপাশি সাত সদস্যের সংসারে সহায়তার জন্য সেলাইয়ের কাজ করত সে। মুক্তির মৃত্যুর পর পরিবারে শোকের পাশাপাশি নেমে এসেছে আর্থিক সংকটও।
মুক্তির মৃত্যুর পর গতকাল সোমবার বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এসব তথ্য জানান তার মা প্রণবা বর্মন ও বাবা নিখিল বর্মন।
এরপর মঙ্গলবার মুক্তির পরিবারকে নিয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে যান ইউএনও। এসময় মুক্তির বড় বোন নিপা বর্মনের চাকরির ব্যবস্থা করে দেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। নিপা বর্মনের জন্য নেজারত শাখায় চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিপার মা প্রণবা বর্মন বলেন, 'জেলা প্রশাসক স্যার মুক্তির মৃত্যুর কারণে শোক প্রকাশ ও আমাদের সমবেদনা জানাইছেন। বড় মেয়েটার জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করছেন। অন্য মেয়েদেরও দেখাশুনা করবেন।'
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, 'মুক্তি বর্মনের নিহত হওয়ার ঘটনাটি বেদনাদায়ক। দোষী ব্যক্তির আইনানুগ শাস্তি কাম্য। পাশাপাশি পরিবারটির দিকেও আমাদের তাকানো দরকার। এসব বিবেচনায় নিহতের বড় বোন নিপা বর্মনের জন্য নেজারত শাখায় চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।'
মঙ্গলবার (০২ মে) স্কুল থেকে ফেরার পথে কাউছার মিয়া (১৮) নামের এক তরুণের দায়ের কোপে আহত হয় মুক্তি বর্মন। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
পরদিন নিহতের বাবা নিখিল বর্মন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে কাউছার মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মুক্তি বর্মন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার প্রেমনগর গ্রামের নিখিল বর্মনের মেয়ে ও প্রেমনগর-ছালিপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।