
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে বসত-বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে চার নারীকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই সময় ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থানায় অভিযোগ হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ফলে পাঁচদিন ধরে আতঙ্কে আছেন হামলার শিকার পরিবার।
এলাকাবাসী ও হামলার শিকার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বেগমপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ওই এলাকার হাসিবুর রহমান অপুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম গংদের সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহিদুল ও তার ছেলে ফরহাদ, নাতি সাইদ মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন দা, লাঠি ও রড নিয়ে অপুর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। প্রতিপক্ষরা তার মা ফিরোজা বেগম (৬১), স্ত্রী ইসরাত জাহান (৩০), শাশুড়ি জুমা বেগম (৫৫), নানি শাশুড়ি হাজেরা বেগমকে পিটিয়ে আহত করে।
নিরুপায় হয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিলে কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক ফাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে মা ফিরোজা, স্ত্রী ইসরাত জাহান ও শাশুড়ি জুমা বেগমকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অপর আহত নানি শাশুড়ি বৃদ্ধা হাজেরাকে বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর ওইদিন রাতে হাসিবুর রহমান অপু বাদী হয়ে ১১জনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ করেন।
থানায় অভিযোগের পর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় হুমকি-দমকি দিচ্ছে। অভিযোগের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আতঙ্কে আছেন হামলার শিকার পরিবারটি।
হাসিবুর রহমান অপু জানান, এর আগেও তারা নানা অজুহাতে বেশ কয়েক বার আমাদের হামলা ও মারধর করেছে। এ ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিলে তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।
এব্যাপারে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও অভিযুক্ত ফরহাদ মন্ডলকে পাওয়া যায়নি। তবে অপর অভিযুক্ত সাইদ মন্ডল জানান, আমি সরকারী চাকরি করি। আমি মারামারি করবো কেন? ফেরাতে গিয়েছিলাম।
কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক ফাড়ি পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।