
শরীকদের ৮ কোটি টাকার সম্পত্তির লোভ সামলাতে পারছেন না। লাঠিয়াল বাহিনী পুষছেন। নাম ভাঙাচ্ছেন আওয়ামী লীগের। বড় সংঘাতের আশঙকা। থানায় জিডি।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মীর মোখলেছুর রহমান টজোর ( ৫৭) বিরুদ্ধে নিজের বোন সহ আত্মীয় স্বজনের অন্তত ২০ বিঘা জমি জোরপূর্বক ১৯ বছর ধরে দখলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য (প্রতি কাঠা গড়ে ২ লাখ টাকা হিসেবে) প্রায় ৮ কোটি টাকা।
মীর মোখলেছুর রহমান টজোর কাছ থেকে তাঁর বোন সহ শরীকরা সমপ্রতি জমি ফেরত নেয়ার উদ্যোগ নিলে তিনি সকলের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করছেন।
এরইমধ্যে গত বৃহস্পতিবার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী হাওয়া বেগম (৫৭) ও আমিনুর রহমানের স্ত্রী হোসনে আরাকে (৫৫) পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সম্পর্কে ওই দুই নারী মীর মোখলেছুর রহমান টজোর চাচাতো ভাবী।
জমি দখলের পাশাপাশি মীর মোখলেছুর রহমান টজোর বিরুদ্ধে দুই নারীকে মারধরের ঘটনায় সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরণের সংঘর্ষ হতে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছেন।
এদিকে আহত হাওয়া বেগম ও হোসনে আরাকে বৃহস্পতিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে দুজনই সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার মধ্যে হাওয়া বেগমের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
তবে, অর্থাভাবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত তাঁকে ঢাকায় নেয়া সম্ভব হয়নি। দুই ভাবীকে মারধর সহ আত্মীয়-স্বজনকে হুমকি-ধমকি, দখলবাজির পেছনে মীর মোখলেছুর রহমান টজোর স্ত্রী গীতা বেগম (৫২) ও একমাত্র ছেলে মীর সাফায়েতের (২০) ভূমিকা আছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
এসব ঘটনায় ইতিমধ্যে মীর মোখলেছুর রহমান টজোর নামে তার ভগ্নিপতি আকতার হোসন রিন্টু জীবননগর থানায় গত বৃহস্পতিবার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর পিএফজি -২৬৮।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মীর মোখলেছুর রহমান টজোর হুমকি-ধমকির মুখে তাঁর চাচা মৃত মীর সানোয়ার আলীর একমাত্র ছেলে মীর অনির্বাণ (২৭) প্রায় সাতবছর ধরে নিরুদ্দেশ রয়েছে। মীর অনির্বাণের ৮ বিঘা সম্পত্তিও বর্তমানে মীর মোখলেছুর রহমান টজো দখল করে রেখেছেন।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যাণ্ড কোম্পানির (বাংলাদেশ লিমিটেড) সাবেক সার্ভেয়ার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের মীর কাওসার আলী ১৯৭৬ সালে এবং তাঁর স্ত্রী জবেদা বেগম ১৯৮২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের চার ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান ছিল। ছয়জনই বর্তমানে মৃত।
মীর কাওসার আলীর সেজ ছেলে মীর মনোয়ার আলী অবিবাহিত অবস্থায় ১৯৭৪ সালে মারা যান। বর্তমানে বড় ছেলে মীর রমজান আলীর ৫ ছেলে ৪ মেয়ে, মেজ ছেলে মীর আনোয়ার আলীর স্ত্রী রাজিয়া বেগম , একমাত্র ছেলে মীর মোখলেছুর রহমান টজো ও ৫ মেয়ে জীবিত আছেন।
এছাড়া, ছোট ছেলে মীর সানোয়ার আলীর একমাত্র ছেলে মীর অনির্বাণ নিরুদ্দেশ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, মীর মোখলেছুর রহমান টজো তাঁর মা, সহোদর তিন বোন, মৃত বড় বোনের দুই সন্তান এবং নিজের ভাগের মোট তিন বিঘা জমি এককভাবে দখলের পাশাপাশি মৃত দুই ফুফুর ৭ বিঘা ও চাচাতো ভাই মীর অনির্বাণের ৮ বিঘা জমি সহ মোট ২০ বিঘা জমি ভোগ দখল করে আসছেন।
অনেকেই অভিযোগ করেন, মীর কাওসার আলী ১৯৭৬ সালে মারা যাওয়ার পর মেজ ছেলে মীর আনোয়ার আলী তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ২৯ বছর এককভাবে এসব সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিলেন।
এরপর মীর আনোয়ার আলী ২০০৪ সালে মারা যাওয়ার পর থেকে মীর মোখলেছুর রহমান ১৯ বছর ভোগ দখল করে আসছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মীর মোখলেছুর রহমান টজোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
জ/আ