প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৩, ২:৩৪ পিএম আপডেট: ২৭.০৪.২০২৩ ২:৪৫ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশ কনস্টেবল রাহেজুল আমিন বাধঁন(৩০) হত্যার ঘটনায় ৬৯জনের নামে মামলা করা হয়েছে।
রোববার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বাশরা গ্রামের ঘটনায় পরদিন সোমবার রাতে নিহতের মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় এজাহারভূক্ত ৬৯ জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলার এজারভূক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের বাশরা গ্রামের জোহর আলীর ছেলে জসিম মির্জা, বাদশা মিয়ার ছেলে আব্দুল বাতেন ও মৃত আবুল কালামের ছেলে ইব্রাহিম ওরফে গেনা।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, উপজেলার বাশরা গ্রামে দীর্ঘদিন যাবৎ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাধনের সাথে একই গ্রামের হাসেম খান, সাদ্দাম, মানিক ও ফরহাদ গংদের সাথে দ্বন্দ্ব চলছিল। উভয়ের মধ্যে একাধিক মামলাও রয়েছে। বাধন পুলিশের কনস্টেবল পদে নোয়াখালী জেলা পুলিশে কর্মরত ছিল। দুই বছর আগে তাকে বরখাস্থ করা হয়। এরপরই বাধন এলাকায় বেপরোয়া হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানায়।
২০২১ সালে বাশরাসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের লোকজন বাধনের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। এর কিছুদিন পর এলাকার লোকজন বাধনের বাড়ী ঘেরাও করলে ওইসময় পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
রোববার (২৩ এপ্রিল) সকালে বাশরা গ্রামের বাড্ডাবাড়ীতে হামলা করে বাধন ও তার লোকজন। হামলায় ওই বাড়ীর নুরু মিয়ার ছেলে হাছান আহত হয়। এই ঘটনার জের ধরে দুপুর ১২টায় এলাকার লোকজন বাধনের বাড়ীতে হামলা করে। হামলাকারীরা তার ঘরের দরজা জানালা ভেঙে তার ঘরে প্রবেশ করে বিক্ষুব্ধ লোকজন।
রামদা লাঠিসোটা দেখে ভয়ে বাধন বাচার জন্য পাশের রফিকুল ইসলামের দালানের একটি রুমে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দালানের প্রধান ফটকের সামনে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে বাধন, তার মা এবং ভাইকে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নেয়ার পর বাধন মারা যায়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর ভূঞা বলেন, বাধন হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে মামলা নেয়া হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর বাধন পুলিশের কনস্টেবল পদে নোয়াখালী জেলা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন অভিযোগে দুই বছর আগে বরখাস্ত হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।