
বগুড়ার ডাকঘরে অফিস সহায়ককে খুন এবং ৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার বাদি পোস্ট অফিস পরিদর্শক মো. মাহিদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন-সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দীকী। এর আগে গত সোমবার রাত পৌণে ১২টার দিকে মামলাটি রুজু হয়।
সোমবার সকালে ডাকঘরের তিন নম্বর গেট এলাকায় প্রশান্ত কুমার আচার্য্যের মরদেহ উদ্ধার হয়। এর আগে দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। প্রশান্ত কুমার আচার্য্য বগুড়া শাহজাহানপুরের বেজোড়া হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ডাকঘরের এমএলএসএস পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি ঈদ উপলক্ষে ডাকঘরে প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডাকঘরে দুজন নৈশপ্রহরী আছেন। ঈদের সময় তারা ছুটিতে থাকেন। এই সময়টায় প্রশান্ত কুমার দায়িত্ব পালন করেন। এভাবেই বিগত বছরগুলোয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। রোববার রাতে প্রশান্ত ও আব্দুল্লাহেল কাফি চিশতির ডিউটি ছিল। তবে ঘটনার দিন থেকে আব্দুল্লাহেল কাফি নিরুদ্দেশ রয়েছে।
রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ডাকঘরের উত্তর পাশের বারান্দার দুটি শিক কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। তারা প্রশান্তকে শ্বাসরোধ ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে তারা ভোল্ট কাটার চেষ্টা করেছে। পুরোটা অংশ কাটতে পারেনি। কাটা অংশ দিয়ে কিছু টাকা তারা বের করে নেয়।
ডাকঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। কিন্তু রাত সাড়ে তিনটার পর থেকে ক্যামেরার কোনো ফুটেজ নেই। কারণ সেগুলোর লাইন কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে সাড়ে তিনটার মধ্যেকার ফুটেজে মুখোশ পরা একজনের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।
পরে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল ইসলামের উপস্থিতিতে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ তাদের ভোল্টের টাকা হিসাব করে দেখেন। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী ভোল্টে ছিল ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ১৮ টাকা। হিসাব করে আট লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়। বাকি টাকা ডাকঘরের কর্মকর্তারা ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে জমা করেন।
তবে হত্যার বিষয়ে সকাল থেকে প্রশান্তের স্বজনরা দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রশান্ত কুমারকে হত্যা করা হয়েছে। ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। হত্যার ঘটনা চাপা দিতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছে।
প্রশান্তের ছেলে জয়ন্ত কুমার আচার্য্য জানায়, বাড়ি থেকে খাওয়া শেষে রোববার রাত সাড়ে দশটার দিকে ডাকঘরে আসেন প্রশান্ত। এরপর সকালে তার কাকা গোবিন্দের কাছে বাবার মৃত্যুর খবর জানা যায়।
নিহতের ছোট ভাই গোবিন্দ আচার্য্য জানান, ঈদের কারণে ভাইয়ের ডাকঘরে রাতের ডিউটি ছিল। আমিও এখানে চাকরি করি। সকালে অফিসে বাইরের গেট বন্ধ ছিল। ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দেয়াল টপকে একজন ঝাড়ুদার ভিতরে গেলে ভাইকে পড়ে থাকতে দেখতে পায়। পরে আমিও ভিতরে ঢুকি। ভাইকে বারান্দায় দেখে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
বড় ভাই পরেশ আচার্য জানান, প্রশান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটেনি। হত্যার ঘটনা চাপা দিতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছে। অফিসের অনেকেই প্রশান্তকে হিংসে করতো৷ তাদের ধরলেই জানা যাবে কিভাবে কি হয়েছে।
মামলার বাদি মাহিদুল ইসলাম জানান, প্রশান্তের সঙ্গে আব্দুল্লাহেল কাফির ডিউটি ছিল সে রাতে। কিন্তু তিনি কেন ছিলেন না আমরা জানি না। তবে জানতে পেরেছি তাকে গোয়েন্দা পুলিশী হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহিনুজ্জামান। তিনি বলেন, ডাকঘরে খুন ও ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু এখন জানানো যাবে না।
ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ডাকঘরে খুন ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এতে ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
জ/আ