প্রকাশ: রোববার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৩, ১০:৩৩ এএম আপডেট: ১৬.০৪.২০২৩ ১২:০৩ পিএম

সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫০ জন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সুদানের স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা ডক্টরস কমিটি জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন সামরিক শাসক গোষ্ঠীর দুই অংশ সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) মধ্যে শনিবার (১৫ এপ্রিল) শুরু হয় এ সংঘর্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোববার (১৬
এপ্রিল) সকালেও দুই বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত
৫৬ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় আহত হয়েছেন
কমপক্ষে ৬০০ জন।
রাজধানী খারতুমে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ সংঘাত কেবল সুদান নয়, আশপাশের অঞ্চলকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি এটি এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে উপসাগরীয় দেশগুলোকেও জড়িয়ে ফেলতে পারে। আর সেই সূত্র ধরে হাজির হয়ে যেতে পারে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো।
সুদানের সশস্ত্রবাহিনী ব্যাপকভাবে সুদানের বর্তমান ডি ফ্যাক্টো শাসক জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের প্রতি অনুগত। তবে অন্যদিকে আরএসএফ মোহাম্মদ হামদান দাগালোর অনুগত, যিনি হেমেদতি নামেই বেশি পরিচিত।
তবে ফোনে আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএসএফ কমান্ডার জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানকে ‘ক্রিমিনাল’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সেনাবাহিনীই অভ্যুত্থান চেষ্টা করছে। আরএসএফ সেনাদের সংঘর্ষে বাধ্য করা হয়েছে।
আরএসএফ প্রধান আরও বলেন, বর্তমান লড়াই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে এবং সব অপরাধীর বিচার হবে। তার কথায়, ‘এই লড়াই কখন শেষ হবে তার কোনো সময়সীমা আমি দিতে পারছি না। তবে আমরা যতটা সম্ভব কম ক্ষয়ক্ষতির মধ্যদিয়ে এই লড়াই শেষ করতে চাই।’
কমান্ডার হামদান আরও বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিটগুলো মেরোওয়েতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। অন্যান্য অনেক ইউনিট আত্মসমর্পণ করেছে। আল-বুরহান একজন ক্রিমিনাল। তিনি একজন মিথ্যাবাদী, মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তার কথা কারও শোনা উচিত নয়।’
কমান্ডার হামদানের ওই বক্তব্যের পরই টেলিফোনে আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে আরএসএফ কমান্ডারের দাবি নাকচ করে দেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ, সেনা সদর দফতর ও খার্তুম বিমানবন্দর সেনাবাহিনীর দখলেই রয়েছে।
এদিকে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান ও আরএসএফ নেতা জেনারেল হামদানকে অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সুদানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের লাশের ওপর দিয়ে কেউ বিজয়ী হতে পারবে না।’
-জ/অ