পুষ্টির জোগানে কৃষি বিভাগের পরামর্শে বেড়েছে 'পারিবারিক পুষ্টি বাগান'
প্রকাশ: সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩, ৫:৩৩ পিএম

কৃষক-কৃষাণীরা বাগানে সবজি এবং ফল চাষাবাদ করে নিজেদের পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত সবজি ও ফল বাজারে বিক্রি করে এখন বাড়তি আয়ও করেছেন। 

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলায় প্রতিটি বসতবাড়ির আঙ্গিনা সহ প্রতি ইঞ্চি কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, সেই সাথে সারাবছর সবজি ও ফলের চাহিদা মেটাতে শুরু হয়েছে 'পারিবারিক পুষ্টি বাগান' স্থাপনের কার্যক্রম। ভাল ফল পাওয়ায় উপজেলাজুড়ে দিনদিন এর জনপ্রিয়তা ও পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

জানা যায়, রানীশংকৈল উপজেলায় কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা পরামর্শে জমির আল,অনাবাদি ও পতিত জমির আওতায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। এ প্রকল্পের অধীনে উপজেলার কৃষকদের বাড়ির আঙ্গিনা ও পতিত জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রদর্শনী করতে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। 

বাগান স্থাপন করতে কৃষক-কৃষাণীকে তিন মৌসুমের চাষাবাদের জন্য সবজি বীজ, রাসায়নিক সার, বেড়া দেয়ার নেট,পানি দেয়ার ঝাঁঝরি, ফলের চারাসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয় কৃষি বিভাগ। 

পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে এই বাগান তৈরি করতে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা সব ধরনের সহযোগিতাও দিচ্ছে। এমন সহযোগিতা পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বাড়ছে পারিবারিক পুষ্টি বাগান। 

উপজেলার দেহুনি গ্রামের মানুষের বাড়ির আঙ্গিনার পতিত জমির বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে হরেক রকম সবজি ও ফল গাছ। নিজেদের সংসারের কাজের অবসরে বাগানে প্রয়োগের মাধ্যমে বারো মাস বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। 

রানীশংকৈল উপজেলার চোপড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন, দেহুনি গ্রামের  শিক্ষক ওহিদুল হক, ভান্ডারা গ্রামের কামাল হোসেন জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকতাদের পরামর্শে তারা তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত দেড় শতক জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করেছেন। এই বাগান স্থাপনে সবজি বীজ, প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সব ধরনের উপকরণ কৃষি বিভাগ থেকে তাদের দেয়া হয়েছে। এমনিক পুরো বাগান স্থাপন করতে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতারা সহযোগিতা দিয়েছেন। এখন বাগানে তারা বারো মাস বিভিন্ন ধরনের সবজি ফলাচ্ছেন। 

যা তাদের পুরো পরিবারের প্রতিদিনের চাহিদা মেটাচ্ছে। এখন আর বাজার থেকে তাদের কোন ধরনের শাক সবজি কিনতে হচ্ছে না। এতে তাদের সারা বছর অনেক টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি অনেকে বাড়তি সবজি বাজারে বিক্রি করে। আয়ও করেছেন। কিছুদিন আগেও তারা এভাবে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি ফলানোর কথা তারা কখনো চিন্তাও করেননি।

রানীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকতা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় চলতি বছর রানীশংকৈল উপজেলায় ৩৭৩টি বাগান স্থাপন করতে কাজ করেছি।

কৃষকদের বাগান করতে সচেতন করা সহ কৃষি বিভাগ থেকে তাদের তিন মৌসুমের সর্ব ধরনের সবজি বীজ, রাসায়নিক সার বাগানের বেড়া দেবার নেট, পানি দেবার ঝাঝরি, বারো মাসি আম, বাতাবি লেবুর চারা সহ নানা উপকরণ ফ্রি দিয়েছি। একই সাথে বাগান করতে মাঠ পর্যায়ে সব রকম সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। 

এসব সহযোগিতা পেয়ে কৃষকরা পারিবারিক পুষ্টি বাগান করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। তারা নিজেরাই এখন বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি এবং ফল উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন যা তার সংসারের খরচে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft