প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩, ৩:৫২ পিএম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতে ক্রমাগত মন্দার কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের আগে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আইএমএফ প্রধানের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অশনি সংকেত দিল আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯৯০ সালের পর থেকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এটাই সর্বনিম্ন এবং গত দুই দশকের গড় প্রবৃদ্ধি ৩.৮ শতাংশের চেয়ে কম।
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি গতবছরের তুলনায় কঠিন সময় পার করবে। চলতি বছর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। এছাড়া এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী হবে।
বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা সামলানো সম্ভব হলেও, ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রবৃদ্ধির হার দুর্বল হয়ে পড়েছে। সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতের ব্যর্থতায় এ আর্থিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
এছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো শ্রমবাজার, যথেষ্ট ভোক্তা চাহিদা ও চীনের উত্থান সত্ত্বেও চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কম থাকবে বলে আইএমএফ ধারণা করছে বলে জানান ক্রিস্টালিনা।
তিনি আরও বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে দুর্বল ও ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উন্নতির সম্ভাবনা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্রিস্টালিনা আরও বলেন, ২০২১ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.১ শতাংশ; ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি প্রায় অর্ধেকে নেমে ৩.৪ শতাংশে দাঁড়ায়। এছাড়া চলতি বছর প্রবৃদ্ধির অর্ধেকের কৃতিত্ব থাকবে ভারত ও চীনের। তবে ৯০ শতাংশ উন্নত অর্থনীতির দেশ এ বছর নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি হার দেখবে।
তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঋণ পরিশোধ ও দুর্বল রফতানির কারণে মাথাপিছু আয় কমে আসবে।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর পরামর্শ দিয়ে আইএমএফ প্রধান বলেন, ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির পাশাপাশি রিয়েল এস্টেটের মতো খাতের দুর্বলতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা।
-জ/অ