নওগাঁয় জমি দখলের প্রচেষ্টার সমর্থনে বদলগাছী থানার অফিসার্স ইনচার্জ আতিউর রহমান এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন-ভুক্তভোগী বদলগাছী উপজেলার ঢেকরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী ঝরনা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সাবিনা ইয়াসমিন নামের ঐ প্রভাবশালী নারী প্রতিবেশী এবং আত্মীয় মো: আব্দুস সালামের নিকট খেকে চাহিদা মত জমি না পেয়ে বদলগাছি থানায বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো: আতিযার রহমান ও দুইজন এ এস আই এসে জমি ও বাড়ির মালিক আব্দুস সালামকে চড় থাপ্পর, কিল ঘুষি এবং বুট জুতা পাযে লাথি মেরেছে।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় উক্ত আব্দুস সালাম পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এখানে বাস করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে উক্ত সাবিনা ইয়াসমিন তার নিজের বাড়ির সম্প্রসারণ এর লক্ষ্যে আব্দুস সালাম এর বাড়ি ঘর দখল করার পাঁয়তারা শুরু করে। এক পর্যায়ে তার বাড়ি কিনে নেয়ার ও প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আব্দুস সালাম এতে রাজি না হওয়ায় আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সাবিনা ইয়াসমিন পুলিশের নিকট বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭ মার্চ দুপুর আনুমানিক সোয়া দুটায় ম বদলগাছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিউর রহমান, বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইমরান, থানার এ এস আই জালাল হোসেন এবং আরো তিন কনস্টেবল সহ উক্ত আব্দুস সালামের বাড়িতে আসেন।
এসময় আব্দুস সালামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ওসি আতিউর রহমান চড় থাপ্পর মারে। এ এস আই জালাল হোসেন বুট জুতো দিয়ে আব্দুস সালামকে কয়েকটি লাথি মারে। এতে আব্দুস সালাম মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সালামের পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বালুভরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মেছের উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেখ আহসানুল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, বালুহারা ইউনিয়ন সভাপতি জিল্লুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য বিপুল চন্দ্র মন্ডল, বালুভরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ: সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র ও শেখ জয়নাল আবেদীন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মোঃ আরমান হোসেনসহ গ্রামের কমপক্ষে ২৫/৩০ জন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রসঙ্গ বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মহাঃ আতিয়ার রহমান দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, জমি নিয়ে বিরুদ্ধে জের ধরে একটি ঘটনার অভিযোগে করলে আমি নিজে সেখানে গিয়ে সেটি মিমাংসা করার কথা বলেছি।
মারপিটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মারধরের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, মারধরের বিষয়টি মিথ্যা। সেখানে আমি সহ তিনজন পুলিশ গিয়েছিলাম এবং মিমাংসা করার কথা বলে আমরা সেখান থেকে চলে আসছি। তারা মিথ্যা কথা বললে কিছু করার নেই বলে জানান।
জ/আ