
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে সেচ খরচ বৃদ্ধির আতঙ্কেও শেরপুরে কৃষকের স্বপ্ন এখন বোরো ধানে। খোরাকীর আমন ধান শেষ পর্যায়ে। শীতকালীন সবজিও শেষ। এখন বোরোর স্বপ্নে বিভোর কৃষক। দুশ্চিতায় রয়েছেন সেচমূল্য বৃদ্ধিও সঙ্কটের কারণে।
বোরো আবাদমুখী গেরহস্থ, সারিকালিনগর গ্রামের আলহাজ্ব শরীফ উদ্দিন সরকার, শালচুড়া গ্রামের সরোয়ার্দী দুদু মন্ডল, প্রতাবনগর গ্রামের ডা: আব্দুল বারী সহ কৃষকরা জানান, বোরো আবাদে খরচবেশী।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে সেচ সঙ্কট ও সেচমূল্যবৃদ্ধি আতঙ্কে রয়েছেন তারা।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার জানান, বোরোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ১০ হেক্টরে, আবাদ ও ফলন ভালোই হবে।
এদিকে কৃষক পড়েছে সেচসংকটও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে সেচখরচ বৃদ্ধির দুশ্চিন্তায়। নদী এলাকায় নদীর পানিতে এবং উঁচু জমিতে সেচদিয়ে বোরো আবাদ করা হয়। মহারশী নদীর উজানে রাবার ড্যাম এবং সোমেস্বরীর উজানে বেআইনী বাঁধে ভাটিতে পানিসংকট সৃষ্টি করে চুটিয়ে পানি বিক্রি করায় সঙ্কটে পড়ছে ভাটির বোরো চাষীরা।
সেচপাম্প ম্যানেজার ও মালিকরা সেচে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে অতিরিক্ত সেচমূল্য নির্ধারণ করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। পাম্প মালিক ও ম্যানেজাররা ইচ্ছেমত সেচমূল্য বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত সেচমূল্যে বাধ্য হয়ে সেচ দিচ্ছেন।
তাদের মতে, পাম্পেমালিক বা ম্যানেজাররা অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ায় লোকসানের ভয়ে আতংকিত কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। শেরপুরের নদী-নালা,খাল-বিল শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষক পানির অভাবে বোরো আবাদ নিয়ে রয়েছে অজানা শঙ্কায়! অনেক কৃষক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করছে নদীর সামান্য পানিতে। এ অবস্থা হয়েছে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারণে।
এক কালের পাহাড়ি নদী খরস্রোত মহারশী-মালিঝি-সোমেশ্বরী, ভোগাই ইত্যাদি নদী যেনো স্মৃতির অতলেই হারিয়ে যাচ্ছে। শুস্ক মৌসুমে নদী-নালা, খাল-বিল পানি শূণ্য হওয়ায় সেচনির্ভর কৃষকরা পড়েছে মহাসঙ্কটে।
এরফলে পরিবেশ বিপর্যয় সহ কৃষি আবাদে নেমে এসেছে স্থবিরতা। নদী সমূহের দু’পার্শ্বের মানুষ দাবি করেছেন দ্রুত নদীগুলো ড্রেজিং করে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে।
কৃষকরা জানান, নদীগুলোর তলদেশে পলিজমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। দু’পাড়ে জেগে উঠা চর, নদীর পাড় খাল বিল দখলে নিয়েও চাষাবাদ করছে ভূমিখেকোরা। এরফলে জেলা হয়ে পড়ছে নদী-নালা, খাল-বিল শূন্য। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ও ঘটছে।
নদীগুলো যেমন মরা খালে পরিণত হচ্ছে তেমনি বিলগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র, মৎস্য সম্পদ ও জলজপ্রাণী। বিল ও নদী তীরবর্তী হাজার হাজার একর জমি নদী এবং বিলের পানি সেচের ওপর নির্ভরশীল। নদী-নালা, খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ সঙ্কটে পড়েছে কৃষক।
নদী ও বিলের পানিতে যে সব কৃষক সেচে বোরো চাষ করেন, তাদেরও ক’বছর ধরে মাথায় হাত পড়েছে। বিত্তবান কৃষকরা গভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ দিতে পারলেও দরিদ্র কৃষকরা অর্থসঙ্কটে সেচ দিতে হিমসিম খাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তণের প্রভাবে ভরা বর্ষায়ও বৃষ্টি না থাকায় এবং শুকনো মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানিরস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত নলকূপে পানি না ওঠায় গোটা জেলার গারো পাহাড়জুড়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমেও নদী-নালা,খাল-বিল গত ক’বছর থাকছে পানি শূন্য।
জলবায়ু পরিবর্তণে নদী-নালা,খাল-বিল শুকিয়ে এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। নদী ও বিলে পানি না থাকায় নদী ও বিলের তলদেশে করা হচেছ চাষাবাদ। এরফলে প্রাকৃতিক জলবৈচিত্র ধ্বংস হয়ে প্রণীকুলের ভারসাম্যও হারিয়ে যাচ্ছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ফারুক আল মাসুদ বলেন, গারো পাহাড়ে যত সমস্যাই হোক-অবশেষে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। কৃষক আশানুরুপ ফলনও পাবেন ইনশাঅল্লাহ।
জ/আ