
পবিত্র রমজান মাসেও বিএনপির আন্দোলন চলবে জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়ার কথা নয়।
তারপরও দেশের যে অবস্থা তৈরি হয়েছে আমরা বাধ্য হয়েছি রমজান মাসেও সাধারণ মানুষকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার যে আন্দোলন, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার যে আন্দোলন আমরা তা চলমান রাখতে চাই।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় লেডিস ক্লাবে এতিম-ওলামাদের সম্মানে বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি আন্দোলন করছে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে। আমাদের ১৩ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। গ্যাস বিদ্যুৎ সহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবিতে ১ এপ্রিল সকল জেলায় ২টা-৪টা অবস্থান কর্মসূচি। ৮ এপ্রিল ৩টা-৫টা পর্যন্ত মহানগর-জেলা-উপজেলা-থানা পর্যায়ে অবস্থান কর্মসূচি। ১৩ এপ্রিল প্রচারপত্র বিলি, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন তা চলমান থাকবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমরা আশা করব এ কর্মসূচিগুলোতে দেশের আপামর জনসাধারণ অংশগ্রহণ করবেন এবং তাদের যে ভোট দেয়ার অধিকার, তাদের কথা বলার অধিকার, সেই অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য দুর্বার আন্দোলনে শরিক হবেন।
দেশে সাধারণ মানুষ কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রমজানে রোজা রেখে মানুষের যেটুকু খাবার দরকার, তা তারা খেতে পারছে না। প্রতিটি জিনিসের দাম আকাশচুম্বী। এর কারণ সরকারের অব্যবস্থাপনা-দুর্নীতি-নিজস্ব সিন্ডিকেট। দেশে এমন সরকার রয়েছে যারা নির্বাচিত নন। তারা মানুষের কষ্ট লাঘবে কাজ করছে না।
তিনি আরও বলেন, আজকে দেশ ও জাতি চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। এখন দলমত নির্বিশেষ সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার, জনগণের সংসদ গঠন করতে হবে।
এসময় বিদ্যুৎ, গ্যাস সহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক জোট।
জ/আ