
সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুর। এই জেলার তিন দিক জুড়ে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। স্বাধীনতার আগে এই সীমান্তে ছিল না কোন তাঁরকাটা। তখন দুই দেশের নাগরিকরা মিলে মিশে সীমান্তে চাষ আবাদ করতেন। দেশ ভাগের অনেক পরে সীমান্ত বেড়া উঠলে ভাগ হয়ে যায় সীমান্তের জমি।
এতে ভারতীয়দের শত শত একর জমি বাংলাদেশ অংশে চলে আসে। তখন থেকে সীমান্ত বেড়া পেরিয়ে জমিতে চাষাবাদ ভারতীয়দের জন্য অসম্ভব হয়ে যায়।
এখন অনাবাদী ভারতীয়দের এ সমস্ত জমি বাংলাদেশীরা লীজ নিয়ে করছে চাষাবাদ। একসনা পদ্ধতিতে বাৎসরিক লীজের টাকা নিয়ে ভারতীয়রা এই সমস্ত জমি বাংলাদেশীদের আবাদ করতে দিচ্ছে। এ যেন সীমান্তে দুই দেশের মানুষের ভালবাসার প্রতিচ্ছবি।
কারণ এতে ভারতীয়রা যেমন তাদের দীর্ঘ অনাবাদী জমির মূল্য, দখল ও ব্যবহার সুবিধা পাচ্ছে। তেমনি বাংলাদেশীরা স্বল্পমূল্যে লীজ নিয়ে কোটি টাকার ফসল উৎপাদন করে স্বাবলম্বি হচ্ছেন। সেই জমিতে নতুন ফসল উঠলে, তা বাংলাদেশী কৃষকরা ভারতীয় জমির মালিককে উপহার হিসাবে দেন।
এভাবে সীমান্ত জমি দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সু-সর্ম্পকের অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব জমিতে উৎপাদিত সবজি ও ফসল মেহেরপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়। বছর শেষে কোটি টাকার লাভের মুখ দেখেন চাষীরা। তারা বলছেন এই সব জমি না পেলে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন হতো না। নিরাপদে সীমান্তের এসব জমি চাষাবাদে সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষি বাহীনি। কৃষি বিভাগ ও বিজিবির হিসেবে ভারতীয়দের কয়েক হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদ করছেন বাংলাদেশীরা।
মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের কৃষক সানোয়ার বলেন, এই জমি ভারতীয়দের। আমরা তাদের জমি লীজ নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছি। এখানকার ফসল আমাদের দেশে বিক্রি হবে। এই জমির পাশে বিজিবি এবং বিএসএফ আসে তারা আমাদের কোন সমস্যা করে না। তাদের ডিউটি তারা করে আমরা আমাদের কাজ করি। তারকাঁটার পাশাপাশি হওয়ায় তারা আমাদের আত্মীয়র মতো।
কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, তারকাঁটা থেকে জমির দুরত্ব হওয়ায় ভারতীয়রা এই জমি আবাদ করতে পরে না। যে কারণেই তারা জমি আমাদের লীজ দিয়ে দেয়। আমরা প্রতি বছরের জন্য বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা লীজ নিয়ে এই সমস্ত জমি আবাদ করি। এসব জমিতে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ভুট্টা, পাট, ধানসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করা হয়। এখানে প্রায় ৩-৪’শ বিঘা জমি আমাদের মত মানষেরা আবাদ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ জামান বলেন, ভারতীয় জমি চাষ করে বাংলাদেশী কৃষকরা এদের অর্থনীতি বড় অবদান রাখছেন। অনেক চাষী আজ কোটিপতি হয়েছেন। দুই পারের মানুষের মাঝে দেশ ভাগের আগে থেকে সুসম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষ একে অপরের আত্মীয়। বিজিবি ও বিএসএফ যৌথ সমন্বয়ে বাংলাদেশের কৃষকরা চাষাবাদ করে তারা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শংকর কুমার মজুমদার বলেন, সীমান্তের ভারতীয় জমি লীজ নিয়ে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন মেহেরপুরের চাষীরা। এটা আমাদের জেলা ও দেশের জন্য পজেটিভ দিক। এতে অর্থনীতির দিক দিয়ে আমাদের দেশ লাভবান বলে মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
জ/আ