সমন্বয়ের নামে প্রতিমাসেই বাড়ছে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম
প্রকাশ: শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৬:০৫ পিএম

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাহী আদেশের কারণে যাচাই-বাছাই বা সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের সুযোগ না থাকায় সমন্বয়ের নামে প্রতি মাসেই দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। ফলে গ্রাহকের নাভিশ্বাস উঠছে।

ডিসেম্বরে অধ্যাদেশ জারির পর গত মাসে সংসদে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইনের সংশোধনী পাস করা হয়। যার মাধ্যমে গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহীর আদেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা যাচ্ছে।

বরাবরের মতো গণশুনানির মাধ্যমেই বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম ঠিক করা হবে বলে শুরুতে আশ্বাস দিয়েছিলেন নীতিনির্ধারকরা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতেই নির্বাহী আদেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সমন্বয় হবে।

তবে বাস্তব চিত্রে দেখা গেল ভিন্ন। আইনে সংশোধনী আনার পর জানুয়ারিতে ১৮ দিনের ব্যবধানে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় দুই দফায়। প্রতিবার ৫ শতাংশ করে একমাসের ব্যবধানে ভোক্তার কাঁধে চাপানো হয় ১০ শতাংশেরও বেশি বাড়তি দামের বোঝা। এর মধ্যে আবার আবাসিক-সিএনজি বাদে বাকি সব খাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। কোনো কোনো খাতে বৃদ্ধির হার ছিল ১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত। আর এ ঘোষণার সবগুলোই গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহী আদেশে এসেছে।

এদিকে নসরুল হামিদ বলেছিলেন যে, সরকারের পরিকল্পনায় প্রতি মাসেই গ্যাস-বিদ্যুতের দামে সমন্বয় করা হবে।

কিন্তু কেনো এই দাম বৃদ্ধি? নীতিনির্ধারকরা অবশ্য বলছেন, বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে নিরূপায় হয়েই এ পথে হাঁটতে হচ্ছে। আর দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ৯ ডলারের এলএনজির দাম ৫০ ডলার ছাড়িয়েছে। একইভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডিজেল এবং কয়লার দামও।

কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরও গ্রাহকের ওপর বাড়তি দামের এতটা খড়গ চাপানো কিংবা প্রতি মাসেই দাম সমন্বয়ের পরিকল্পনা কতটা যৌক্তিক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণশুনানি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে প্রশ্ন করার কোনো সুযোগই থাকছে না। এতে ক্ষুন্ন হচ্ছে গ্রাহক স্বার্থ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বিইআরসি আসলে ভোক্তার স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করতে পারেনি। কিন্তু তাও আগে ভোক্তাদের কথা বলার একটা সুযোগ ছিল। এখন তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরামর্শক প্রকৌশলী সালেক সুফী বলেছেন, বাংলাদেশের এনার্জি খাতের কি ওই ম্যাচিউরিটি আছে, যে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হবে? এগুলো আবার বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই।   
 

-জ/অ


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft