১৫০ কোটি টাকার বনভূমি বেদখল, উজাড় হচ্ছে গারো পাহাড়
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৫:৩৬ পিএম

শেরপুর গারো পাহাড়ের ১৫০ কোটি টাকার সরকারি বনভূমি বেদখল ও উজাড় হচ্ছে বনভূমি। দীর্ঘদিন বসবাসের দোহাই দিয়ে বসবাস করছে দখলদাররা। করছেন চাষাবাদ। গড়েছেন অবৈধ বাড়িঘর। উজাড় হচ্ছে বৃক্ষরাজি। 

বন বিভাগ জানায়, গারো পাহাড় ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিস্ত্রীর্ণ বনভূমি ৩ রেঞ্জে বিভক্ত। ৩ রেঞ্জে ২১ হাজার একরজুড়ে বনভূমি। রাংটিয়া রেঞ্জে ৮ হাজার ৮৮০ একর, মধুটিলা রেঞ্জে ৪ হাজার ২৩৫ একর এবং বালিজুড়ি রেঞ্জে ৭ হাজার ৫৮৫ একর বনভূমি। তার ১৫ শতাংশই অবৈধ দখলে। 

রাংটিয়া রেঞ্জে ১ হাজার ৪৬৬ একর,বালিজুড়ি রেঞ্জে ৪৭৭.৩৪ একর ও মধুটিলা রেঞ্জে ৬০২ একর বনভূমি বেদখল করেছেন ৪ হাজার দখলদার। যার বাজারমূল্য ১৫০ কোটি টাকা দাবি বন বিভাগের।

বনবিভাগের মতে দখলদাররা বাড়িঘর করে বসবাস ও পাহাড় কেটে ধানসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করছেন। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বনা লও কমে গেছে বন্যপ্রাণী। বনা লে বাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, বানর, শূকর ও বনমোরগসহ নানা পশু পাখি থাকলেও এখন চোখে পড়ে না। বিদেশী গাছ রোপণ ও দখলদারদের অত্যাচারে বিলুপ্তই হয়ে গেছে। বাসিন্দারা বনে বসবাসের কথা স্বীকার করলেও দীর্ঘদিন বসবাস করছে বলে জমি ছাড়তে নারাজ। বিকল্প ব্যবস্থায় রাজি তারা। 

রাংটিয়ার জিতার আলী বলেন, স্বাধীনের আগ থাইক্কা বাড়ি কইরা আছি। থাকতে না দিলে কই থাকমু। 

নাজমুল হক বলেন, ১৯৬৪ সালে ভারত থেকে আইসা বাড়ি করছি। জায়গাজমি নাইপাহাড়েই থাহি। কোথাও থাহার ব্যবস্থা কইরা দিলে, জামুগা। 

দিলীপ মিয়া বলেন, বাপ-চাচারা থাকতো। থাকপার না দিলে কই যামু। সরহারের কাছে আবেদন, আমগরে থাহনের ব্যবস্থা কইরা দেন। 

গজনীর কৃষক হেকমত আলী বলেন, বাপের কাছে জায়গা পাইছি। বউ-পুলাপান লইয়া থাহি। চাষাবাদ কইরা খাই। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কইরা তুইলা দিলে জামুগা। নইলে রাস্তায় থাহা লাগবো। 

মিনারা বেগম বলেন, সরহার ব্যবস্থা কইরা দিলে যামুগা। না কইরা খেদাই দিলে থাকমু কই- খামু কি? 

শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) বলেন, জমি উদ্ধার করে প্রতি বছর বনায়নের কাজ চলছে। উচ্ছেদে  প্রতি রেঞ্জ ও বিট অফিস দখলদার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফারুক আল মাসুদ বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বনভূমি রক্ষায় যা করা দরকার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তাই করা হবে। 

শেরপুরের জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার বলেন, শেরপুর জেলার জন্য বনভূমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
জেলার বিস্তীর্ণ বনভূমিতে থাকা অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান আছে। বন বিভাগ ও উচ্ছেদ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft