স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাবেক প্রেমিকাকে খুন, অতঃপর...
প্রকাশ: রোববার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৩:৩৩ পিএম

মুন্সিগঞ্জের স্কুলপড়ুয়া আদিবা আক্তারের সঙ্গে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই গ্রামের বিজয় রহমানের। 

আদিবার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালে গত বছরের জানুয়ারিতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসিকা মাহমুদের সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়ান বিজয়। গোপনে দুইজনের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। একসময় আদিবা বিষয়টি ধরে ফেলেন।

একপর্যায়ে বিজয়কে চাপ দিয়ে গোপনে বিয়ে করেন আদিবা। বিয়ের বিষয়টি জেনে জেসিকা তার সঙ্গে বিজয়ের ম্যাসেঞ্জারে বার্তা আদান–প্রদানের স্ক্রিনশর্ট আদিবাকে পাঠায়। 

এ নিয়ে আদিবার সঙ্গে বিজয়ের ঝগড়া হয়। তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। পরে ভুল–বোঝাবুঝির অবসান হলে দুজন মিলে পরিকল্পনা সাজিয়ে জেসিকাকে খুন করেন।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বিজয় ও তার স্ত্রী আদিবা মিলে গত ১ জানুয়ারি জেসিকাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ জানুয়ারি জেসিকার বাসায় যান আবিদা। নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে নেয়ার কথা বলে জেসিকাকে বিজয়ের বাসার ছাদে ডেকে নেন আদিবা।

সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিজয় ও আদিবা মিলে জেসিকাকে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দুজন মিলে জেসিকাকে ছাদ থেকে ফেলে দেন। 

পরে নিজেরাই আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার এক মাস পর শনিবার হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিজয় রহমানকে (১৯) রাজধানীর ওয়ারি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। 

খন্দকার আল মঈন বলেন, জেসিকা হাসপাতালে মারা গেলে সেখান থেকে পালিয়ে যান বিজয় ও আদিবা। জেসিকার ভাই হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের কাছ থেকে জানতে পারেন, তার বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

পরে তিনি বাদী হয়ে বিজয় ও আদিবাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার পরদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আদিবাকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি এখন কারাগারে আছেন। আর বিজয় ঘটনার পর মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় এক বন্ধুর বাসায় চার দিন আত্নগোপনে থাকেন।

সেখানে নিরাপদ মনে না করায় ফরিদপুরের একটি মাজারে গিয়ে ২২ দিন ছদ্মবেশে আত্মগোপন করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সেখান থেকে ওয়ারিতে এলে র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।

জ/আ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:   খুন  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft