প্রকাশ: শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৭:০২ পিএম

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দেশের ক্রিকেটারদের কমনসেন্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিপিএল নবম আসরের ৩৫তম ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে জয় পায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কুমিল্লার তিন আসরের শিরোপাজয়ী কোচ সালাউদ্দিন।
তিনি বলেন, লোকাল খেলোয়াড়দের কাছে আমি একটা সামান্য কমনসেন্স (সাধারণ জ্ঞান) চাই, যে একটা কমনসেন্স থাকে। তাদের আসলে কমনসেন্স আছে কি না এটা নিয়ে আমার সন্দেহ। আপনি যদি ১৫ বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট মিরপুরে খেলেন, আপনি জানেন যে আপনার আসলে কী করতে হবে। সে কমনসেন্স যদি আপনার না থাকে তাহলে আসলে আমি হতাশ। বিশেষ করে আমাদের ছেলেরা ক্রিকেট নিয়ে চিন্তা করে কিনা সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ।
পাকিস্তানের তারকা ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান বিপিএলে কুমিল্লার হয়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছেন। তার প্রসঙ্গ টেনে সালাউদ্দিন বলেন, রিজওয়ানের সঙ্গে আমাদের দেশের অনেক ওপেনার ধরেন বা অলরাউন্ডার ধরেন, তাদের শটসের লিমিটেশন অনেক বেশি বা তারা হয়তো আরও জোরেও মারতে পারে। সব দিকে মারতে পারে, কিন্তু খেলতে গেলে দেখা যায় যে, মনে হয় উল্টো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি আরেকদিন প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম, আমাদের দেশে অনেকে হয়তো মাথা দিয়ে খেলে, অনেকে খেলে না। বেশিরভাগই মাথা ছাড়া ক্রিকেট খেলে। যেদিন প্রশ্ন কমন পড়ে যায়, সেদিন ভালো খেলে, যেদিন পড়ে না সেদিন ভালো খেলে না। খুবই হতাশাজনক। আপনি যখন ১০/১২ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছেন তখন সামান্য কমনসেন্স থাকা উচিত কখন কি করতে হবে।
বিপিএলের শুরুর আসর থেকেই কুমিল্লার প্রধান কোচের ভূমিকা পালন করছেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, আমার মনে হয় লোকাল ক্রিকেটারদের ক্রিকেট জ্ঞান অনেক কম। সামান্য জিনিস এই উইকেটে আমার কি করতে হবে বা কোন বোলারকে আমি কখন চার্জ করব। যখন সব কিছু আমার নিয়ন্ত্রণে আছে তখন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কেন! এ বুদ্ধি যদি কারো না হয় তাহলে তারা ক্রিকেট কবে শিখবে! উপরওয়ালা জানে।
সালাউদ্দিন বলেন, আপনার যদি গ্রামার ছোট বেলা থেকে খারাপ থাকে তাহলে তো আপনি ইংলিশ রচনা পড়তে পারবেন না। আমরা আসলে ছোটবেলা থেকে তাদের ওভাবে গড়ে তুলছি। আমরা নিজেরাই সব সময় বেশিরভাগই কোচ নির্ভর খেলোয়াড়, কোচ যেটা বলবে। মাঠেতো আর কোচ খেলবে না, তখনই খেলোয়াড়দের ব্রেনটা কাজে লাগাতে হবে। কিন্তু তাদের ব্রেন তখন লক হয়ে যায়। অমাদের সিস্টেমেই গলদ। কম্পিউটারের সেটআপটা ঠিক মতো হয়নি। ছোটবেলা থেকে সেটআপ ভালো মতো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে তাদের যদি আমরা স্বাধীনভাবে গড়ে তুলতে পারতাম, তাহলে এ সমস্যাটা হতো না। আমরা যারা কোচিং করাই তাদেরই সমস্যাটা বেশি, ছেলেদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। একটা পর্যায়ে এসে ব্রেনটা কাজও করে না। ছোটবেলা থেকে যদি আমাদের কোচিং ম্যাথোড পরিবর্তন করি তাহলে হয়তো কাজে আসবে।
-জ/অ