রাত গভীর হলেই ডাক্তার বনে যায় ওয়ার্ড বয়-নার্স, মহিলা ওয়ার্ডে ডিউটি করেন ওয়ার্ড বয়

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। এক সময়ের নাম করা এ হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা রোগীদের এখন অভিযোগের অন্ত নেই। রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহেলা।
রোগী ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালটির কর্মকর্তারা হয় কর্মচারীদের কাছে জিম্মি অথবা কর্মচারীদের এসব অপকর্মে সায় রয়েছে কর্মকর্তাদের। কারণ, কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করেও ফল পান না ভুক্তভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, প্রতিষ্ঠানটি এক সময়ে সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও কতিপয় নার্স- ওয়ার্ডবয় ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসৎ আচরণ, সীমাহীন দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মে ডুবতে বসেছে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম।
জানা গেছে, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যেতে থাতে হাসপাতালের দৃশ্যপট। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সেবা দিতে মেলে না ডাক্তার। আবার কখনও ডাক্তারের চেম্বারে পাওয়া যায় নার্স বা ওয়ার্ডবয়কে।
খোশ গল্পে আড্ডা, আনন্দ উল্লাসে থাকলেও পাত্তা দেয় না রোগীর স্বজনদের।রোগীর স্যালাইন খুলতে বা লাগাতে পাওয়া যায় না নার্স। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, রাতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অনেক সময় জরুরিভাবে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।
এ সময়ে ফ্লোরে ফ্লোরে ঘুরতে হয় রোগীর স্বজনদের। হয়রানির স্বীকার হতে হয়। টাকা দিয়েও মেলে না সেবা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রোগীর স্বজন বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১.৩০ মিনিট আমার বোনের শরীর বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এ সময় ডাক্তার ছিলেন না। অনেক অনুরোধ করার পর ডাক্তার আসেন এবং বলেন, দ্রুত এই টেস্টটি করিয়ে আনেন। কিন্তু ল্যাবে কেউ নেই। একবার ৮ তলা, একবার ৬ তলা আবার ১১ তলা এভাবেই ঘুরেছি কয়েকবার।
অবশেষে ৬ তলায় গিয়ে দেখি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘুমাচ্ছেন। অনেক ডাকাডাকির পর এলেন। যা হোক টেস্ট করলাম কিন্তু ততক্ষণে ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখে চলে গেছেন।
এই হলো ঢাকা কমিউনিটি হাসপতালের দৈন্যদশা। আরেক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, ১১ তলায় আমার মেয়ে ভর্তি ছিল। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ জ্বর বেড়ে গিয়েছিল।
এ সময়ে সাপোজিটর দেয়ার জন্য কোন নার্সকে পাওয়া যায়নি। একজন ওয়ার্ডবয় রুমে এসে বলেন, রাতে নার্স পাওয়া যায় না। আমাকে বলুন কী করতে হবে। এ সময়ে চোখ কপালে ওঠে রুগীর স্বজনের।
কারণ মহিলা রোগীর সাপোজিটর দেবে ওয়ার্ড বয় ! বিষয়টি হাসপাতালের সুপারভাইজারকে অবগত করলে তিনি সব কিছু শুনে নিচ থেকে একজন আয়া নিয়ে এসে বলেন, ‘ইনি নার্স’ কিন্তু আমি ওই মহিলাকে চিনি।
গত কয়েক দিন থেকে দেখেছি তিনি আয়ার কাজ করেন। তাহলে মিথ্যে বলার দরকার হলো কেন? এখানে আমরা টাকার বিনিময়ে সেবা নিতে এসে হয়রানির স্বীকার হচ্ছি।
এটা খুবই দুঃখজনক। আগে এ হাসপাতালে অনেক নাম-ডাক শুনেছিলাম। কিন্তু এখন এসবের কিছুই নেই। আছে শুধু প্রতারণা আর হয়রানি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ মোঃ সবুজ বলেন, যা বলার আমাকে বলুন। এখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করা যাবে না।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রোগীর স্বজনের অভিযোগ পাওয়ায় পরে নার্সকে ডেকে সেবা প্রদান করা হয়। এখানে নার্সরা খুবই পরিশ্রম করেন। অনেক সময় কাজ না থাকলে একটু বিশ্রাম নেন। কিন্তু কেউ ডাকলে সেবা দেন।