লোডশেডিংয়ের কারণ হিসেবে দুর্নীতি, ভুল নীতি ও সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে আজ বিকেল ৪ টায় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদু্যৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়- বিদু্যৎ ছাড়াই ৩ বছরে সরকারের গচ্চা ৫৪ হাজার কোটি টাকা। আর ব্যবসায়ীদের পকেটে গেছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। অপরিকল্পিত বিদু্যৎশক্তি এখন গলার কাঁটা।
এ ব্যপারে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আর্ন্তজাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়কে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে সরকারের নীতিই বিদু্যৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবারাহে দেশকে বিদেশ নির্ভর করে তুলেছে। বিদু্যৎখাতে দুর্ণীতি ও লুটপাট সহায়ক সরকারী নীতিই বর্তমান সংকট সৃষ্টি করেছে বলে জোনায়েক মন্তব্য করেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। কুইক রেন্টালের নামে বিপুল ভর্তুকি দেয়া হয়েছে কয়েকজন বেসরকারী উদ্যোক্তাকে। ফলে বারবার বাড়ছে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ। আর এই বাড়তি খরচের বোঝা চাপছে জনগণের ওপর। দেশের সক্ষমতা না বাড়িয়ে আমলারা নিজেদের স্বার্থে পুরো জ্বালানি নিরাপত্তাকে ধ্বংস করেছে।
তিনি মনে করেন, কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার জন্য দোষী আমলাদের বিচারের আওতায় আনা ছাড়া বিকল্প নেই। পাশাপাশি এ সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য শীর্ষ পদগুলো থেকে আমলাদের সরিয়ে দিয়ে দক্ষ ও দায়িত্বশীল লোকদের যথাযথ স্থানে নিয়োগ দিতে হবে বলেও জানান এই অধ্যাপক।
-জ/আ