খালা–মায়ের পর ছোট ফারহানাও চলে গেলো
প্রকাশ: বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২, ৯:১৪ পিএম

দুপুরে মা-বাবা ও খালার সঙ্গে ছোট খালার বিয়ের বাজার-সওদা করে নানাবাড়িতে ফিরছিল দেড় বছরের ফারহানা। পথে বিআরটিসির একটি বাসের চাপায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণ হারায় ৪ জন। গুরুতর অবস্থায় ছোট ফারহানা ও তার বাবা ফয়সাল আহমেদকে ভর্তি করা হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বিকেলে ছোট্ট ফারহানাও চিরবিদায় নেয়। 

আজ বুধবার বেলা পৌনে একটায় বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসংলগ্ন চৌমাথা এলাকার কুয়াকাটা-বরিশাল মহাসড়কে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটিকে চাপা দেয় বিপরীত দিক থেকে আসা বিআরটিসির একটি বাস। ঘটনাস্থলেই মাহিন্দ্রার চালকসহ চারজন মারা যান। নিহতরা হলেন- বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোবাহান চৌধুরীর ছেলে আমির চৌধুরী, রফিক খানের ছেলে হাসিব খান (২২), বারেক সিকদারের ছেলে সোহাগ সিকদার (২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভুবন এলাকার মো. নাসিরের স্ত্রী তানজিলা আক্তার (৩০)।  

বাবা ফয়সাল আহমেদ, ফারহানা ও মা সাথী আক্তারকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। বেলা দুইটার দিকে ফারহানার মা সাথী মারা যান। ছোট ফারহানা তখন অচেতন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় চিকিৎসক-নার্সরা ফারহানাকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কিন্তু বিকেল চারটার দিকে তার শ্বাসপ্রশ্বাস থেমে যায়।

এ নিয়ে এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুসংখ্যা দাঁড়াল ছয়ে। দুর্ঘটনায় আহত ফারহানার বাবা ফয়সালের অবস্থাও গুরুতর। তিনি এখনো শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স প্রভাতী বড়াল বলছিলেন, ‘ফারহানাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল খুবই গুরুতর অবস্থায়। দ্রুত তার চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছিল ছোট বাচ্চাটাকে জাগিয়ে তুলতে। কিন্তু কিছুতেই তার সাড়া মিলছিল না। ফারহানার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার মশিউর রহমান ফেরদৌস। তিনি বলেন, বিকেল চারটার দিকে ফারহানা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর আগে মারা যান ফারহানার মা সাথী আক্তার।

ফারহানার বড় খালু শাহাদাত হোসেন বলেন,‘কত আনন্দ নিয়ে ঢাকা থেকে আজ সকালে স্ত্রী-সন্তান এবং আরেক শ্যালিকা তানজিলা আক্তার ও পরিবারকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলাম। কত আনন্দ হবে ছোট শ্যালিকার বিয়েতে। কিভাবে যে কি হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের কান্নারও শক্তি নেই। পুরো পরিবারে এখন শোক-কান্না আর আহাজারি।’


-জ/আ


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft