প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২, ১১:২৬ পিএম আপডেট: ১২.০৭.২০২২ ১১:৪৮ পিএম

শ্রীলঙ্কার অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সর্বদলীয় সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা চান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যারা আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করবে। অধিকাংশ বিক্ষোভকারীই শ্রীলঙ্কান পদুজানা পার্টির (এসএলপিপি) বিরোধী। এই দলটির নিয়ন্ত্রণ রাজাপাকসে পরিবারের হাতে। সর্বদলীয় সরকার গঠিত হলে ক্ষমতা তাদের হাতেই থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন বিক্ষোভকারীরা। আল-জাজিরার প্রতিবেদন।
মেলানি গুনাথিলাকে নামের ৩৫ বছরের এক নারী বলেন, বিক্ষোভকারী নেতারা সর্বদলীয় সরকারের কঠোর বিরোধী। তিনি বলেন, সর্বদলীয় সরকার গঠিত হলে রাজাপক্ষে পরিবার পেছন থেকে কলকাঠি নাড়তে পারে। সাবির মোহাম্মদ নামের ২২ বছরের এক তরুণ বলেন, ‘আমরা অনতিবিলম্বে গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও রনিল বিক্রমাসিংহের পদত্যাগ চাই। এরপর অন্তত ছয় মাস একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করবে। আমরা কোনো সর্বদলীয় সরকার চাই না।’
৫ জুলাই একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে জনতা আরাগালয় (জনগণের সংগ্রাম)–এর সদস্যদের মধ্য থেকে একটি গণপরিষদ গঠন করতে হবে, যা দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের বিষয়টি দেখভাল করবে এমন দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া ছয় দফা দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
দাবিগুলো হলো—
১. প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষকে দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।
২. প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহ ও তাঁর সরকারকে অতিসত্বর ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
৩. একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে। যার মেয়াদ হবে ন্যূনতম ১ বছর।
৪. গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়—এমন নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে এবং আগামী ১ বছরের মধ্যে এটা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করা পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা কমাতে হবে, পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
৬. উল্লেখিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল নীতি।
বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্বের কোনো কাঠামো বা একক কোনো সংগঠন নেই। তবে ইন্টার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন যা বামপন্থী ফ্রন্টলাইন সোশ্যালিস্ট পার্টির অঙ্গসংগঠন এবং জনতা বিমুক্তি পেরামুনার (জেভিপি) ছাত্রসংগঠন সোশ্যালিস্ট ইয়ুথ ইউনিয়ন বিক্ষোভে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
সোশ্যালিস্ট ইয়ুথ ইউনিয়ন ইরাঙ্গা গুনাসেকারা আল–জাজিরাকে বলেন, সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে যাতে নিজেদের ভবিষ্যৎ কান্ডারি বেছে নিতে পারে, সেই পথ তৈরি করে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।