প্রকাশ: শনিবার, ৯ জুলাই, ২০২২, ১:৩৪ পিএম আপডেট: ০৯.০৭.২০২২ ১:৪৭ পিএম

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন দেশটির র্সবস্তরের জনগন। আবে যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, সেই পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারার শোকাহত জাপানিদের ঢল নেমেছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বন্দুক সহিংসতা বিরল যে দেশে, সে দেশে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর এমন হামলায় স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো জাতি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপানের সবচেয়ে কম বয়সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন আবে, ২০০৬ সালে। ২০১২ সালে ফের ক্ষমতায় ফিরে জাপানের অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামরিক শক্তি বাড়ানোয় মনোযোগ দেন তিনি। ২০২০ সালে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করার পরও ছিলেন রাজনীতিতে সক্রিয়। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সবচেয়ে বড় অংশও মূলত তারই নিয়ন্ত্রণে ছিল।
গতকাল শুক্রবার সকালে এলডিপির এক প্রার্থীর প্রচারেই নারা গিয়েছিলেন আবে; দলীয় সমাবেশে বক্তৃতা করার সময় তাকে পেছন থেকে গুলি করেন ৪১ বছর বয়সী এক আততায়ী। এ ঘটনাকে জাপানের গণতন্ত্রের ওপর নির্মম আঘাত হিসেবেও দেখছেন রাজনীতিকরা। রক্ষণশীল রাজনীতিক, ‘আবেনোমিক্স’ নীতির কারিগর সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই জাপানকে ‘অনন্য সুন্দর দেশ’ বলতেন, যা নিওয়াকে অনুপ্রাণিত করেছে ছেলের নাম মাসাকুনি রাখতে। জাপানি ভাষায় ‘কুনি’ মানে ‘দেশ’।
শোকের মধ্যেই দেশটিতে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ভোটের শেষদিনের প্রচারণাও শুরু হয়েছে। আবে হত্যাকাণ্ড এই নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং আবের অনুসারী ফুমিও কিশিদা নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট সরকারকে বড় জয় এনে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আবের মৃত্যু জাপানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি জোরেশোরে হাজির করেছে; নির্বাচনী প্রচার মৌসুমে দেশটির রাজনীতিকদেরকে নিয়মিতই রেলস্টেশনের বাইরে, সুপারমার্কেটের মতো ভিড়ঠাসা এলাকায় মানুষের কাছে সরাসরি গিয়ে ভোট চাইতে দেখা যায়।
প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা আবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই পড়ে যান। তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তার আর জ্ঞান ফেরাতে পারেনি।
হামলার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সাবেক এ জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুলিবিদ্ধ আবেকে যে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, আজ শনিবার সেখান থেকে একটি গাড়িবহর বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। ওই বহরে আবের মৃতদেহ ছিল এবং বহরটি তার টোকিওর বাসভবনের উদ্দেশ্যেই রওনা হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।
আজ জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদার সঙ্গে জো বাইডেনের কথা হয়েছে; মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আবের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন বলে জানিয়েছে এনএইচকে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে কোয়াড গঠনের অন্যতম রূপকার আবের মৃত্যুতে জোটের বাকি তিন সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। “একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অঞ্চলের লক্ষ্যে কাজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রী আবের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবো,” বিবৃতিতে বলেছে তারা।