প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২, ৭:৫৫ পিএম

১৪ ডিসেম্বর রাতে জয়দেবপুরে গার্মেন্টস শ্রমিক নূপুর আক্তারের (২৬) কে শরীরে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দে’য়ার ৩ দিন পর পরিবার তার সাবেক স্বামী নাজমুল মিয়াকে (৩৪) আসামি করে মামলা করে।
মামলায়, নাজমুল মিয়া পেট্রল ঢেলে নূপুরকে হত্যাচেষ্টা করেছেন উল্লেখ করা হয়। এ বছর মে মাসে নাজমুলকে একক আসামী করে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দগ্ধ হওয়ার প্রায় ৬-৭ মাস যাবত নূপুর শরীরে ক্ষত নিয়ে বিচারের জন্য ঘুরছেন। অভাবের কারণে উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। ফলে ক্রমেই তার অবস্থার অবনতি ঘটছে। এ অবস্থায় নূপুরের সাবেক স্বামী নাজমুল মিয়ার ফাঁসি চায় নূপর পরিবার।
নূপুর বলেন, ৫ মাস যাবৎ উপুড় হয়ে শুয়ে থাকছি। কাপড় পরতে ও চলাফেরা করতে পারছি না। শরীর জ্বালাপোড়া করে। সে নকলার গণপদ্দীর বন্দগজারিয়া গ্রামের দিনমজুর তোতা মিয়ার মেয়ে। সে গাজীপুরের এক পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিল। সাবেক স্বামী নাজমুল নকলার ইশিবপুরের দরবেশ মিয়ার ছেলে।
নূপুরকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার বাবা তোতা মিয়া বাদী হয়ে নাজমুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত বছর ১৭ ডিসেম্বর জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। নাজমুল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে মে মাসে জয়দেবপুর থানা-পুলিশ আদালতে নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
নূপুর ও পরিবার জানায়, গত বছর ১৪ ডিসেম্বর রাতে নূপুরের শরীরের ৬০-৬৫ শতাংশই পুড়ে গেছে। আহত নূপুর ২ দফায় দীর্ঘদিন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেয়। কিন্তুু উন্নত চিকিৎসার টাকা না থাকায় বাড়ি চলে আসে। বর্তমানে সে বাবার বাড়িতেই কাতরাচ্ছন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ৬ বছর আগে নকলার নাজমুলে মিয়ার সাথে নূপুরের বিয়ে হয়। সংসারে ১টি ছেলেসন্তানও রয়েছে। আগে থেকেই নাজমুল মাদকাসক্ত ছিল। স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে নূপুর নাজমুলকে বারবর তাগিদ দিলেও সে কোন কথাই রাখেনি। বরং নাজমুল নূপুরকে আরো নির্যাতন করতেন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গত বছর ২৬ জুলাই নূপুর স্বামী নাজমুলকে তালাক দেয়। ক্ষুব্ধ হয়ে নাজমুল নূপুরকে ভয়-ভীতি এবং পুনরায় সংসার করার চাপ দেয়। নূপুর রাজি না হওয়ায় গত বছর ১৪ ডিসেম্বর রাতে নাজমুল নূপুরের পিঠে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে নূপুরের পিঠ, হাতসহ শরীরের পেছনের ৬০-৬৫ ভাগ পুড়ে যায়।
নূপুর বলেন, ৫ মাস যাবত উপুড় হয়ে শুয়ে থাকছে সে। কাপড় পরতে ও চলাফেরা করতেও পারে না। সব সময় শরীর প্রচন্ড জ্বালাপোড়া করে। উন্নত চিকিৎসায় প্রচুর টাকার প্রয়োজন। দিনমজুর বাবার পক্ষে টাকার সংগ্রহ করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তাই উন্নত চিকিৎসায় সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের মানবিক সহায়তা চান এবং সরকারের নিকট নাজমুলের ফাঁসির দাবি করেন।’
বাবা তোতা মিয়া বলেন, টাকার অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টাকারি নাজমুলের ফাঁসি দাবি করছি। জয়দেবপুর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুদ্দুছ মুন্সি বলেন, আসামি নাজমুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দে’য়া হয়েছে। আদালতে মামলার বিচার শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি।