প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২, ৬:১১ পিএম

আকাশে কখনো রোদ আবার কখনো কালো মেঘের ঘনঘটা। ক্ষণিকের মধ্যেই নীল আকাশে জড় হয় কালো মেঘের পাহাড়। মুহূর্তেই শুরু হয় নীড় ভাঙা ঝড়। গ্রীষ্মের রোদ্রে তপ্ত মাটির বুকে নামে বৃষ্টি। এমন সব নৈসর্গিক চিত্র দেখে মনে হবে রাজশাহী বিশ্ববিদালয়ের প্রকৃতিতে যেন বর্ষার আগমন ঘটেছে।
যদিও বর্ষা আসতে এখনো বেশ কিছুদিন দেড়ি তবুও ক্যাম্পাসের অনিন্দ্য সুন্দর ফুলগুলো তাদের রূপ লাবণ্যে মুগ্ধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীদের। আর সবকিছুর মাঝে কদম ফুলের স্নিগ্ধ সৌরভ ক্যাম্পাসকে দিয়েছে নজরকাড়া সৌন্দর্য।
বর্ষাকালে যেসব ফুল তাদের সৌরভ ছড়িয়ে প্রকৃতিকে বিমোহিত করে রাখে তাদের মধ্যে অন্যতম কদম। বর্ষা আসতে দেরি হলেও বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিতে নিজের মোহনীয় সৌরভ ছড়িয়ে মানুষের হৃদয় কাড়ছে কদম। কদমের সুগন্ধ প্রেমিক প্রেমিকার হৃদয়ে সঞ্চার করছে প্রেমের অপার মহিমা।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরের রাস্তার ধারে কয়েকটি গাছে দেখা যায় গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে থরে থরে ফুটেছে কদম। কদমের মন মাতানো গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে দূর দূরান্ত থেকে মধুর সন্ধানে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে বসছে অলি। মধু সংগ্রহ করে ফিরে যাচ্ছেন নিজ ঠিকানায়।
কদমের মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু সাদা ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাসে মোহিত প্রেমিক যুগল। প্রেমিকের কাছে প্রেমিকার একগুচ্ছ কদম হাতে বৃষ্টিতে ভেজার আবদার। রাধার সেই আবদার ফেলতে না পেরে গাছে উঠে একগুচ্ছ কদমের ডালা নিয়ে নামে কৃষ্ণ। আর প্রেমিকের হাতে কদমের পূর্ণ প্রস্ফুটিত মঞ্জরির সাদা-হলুদে মেশানো ফুলের তোড়া দেখে আনন্দে আটখানা হয় প্রেমিকা। এ যেন প্রেমের মহাকাব্য।
কদম শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘কদম্ব’ থেকে। যার অর্থ হলো ‘যা বিরহীকেও দুঃখী করে’। কদমের সৌরভে বিমোহিত হয়ে এই গাছের ডালে বসে বাঁশির সুরে রাধার মনকে বেআকুল করে তুলত কৃষ্ণ। আর সেই মোহন বাঁশির শব্দে পাগল হয়ে কদম্বের তলে ছুটে আসত রাধা। প্রেম আদান প্রদানের ঠিকানা যেন এই কদমতলা। যার অস্তিত্ব আমরা এখনো গ্রাম বাংলার বিভিন্ন গানে, ছড়ায় খুঁজে পাই। কানে পড়ে ‘প্রাণ সখি রে, ওই শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে?’ তখন নারীমনে নিজের অজান্তেই ঢেউ দিয়ে যায় পুরনো প্রেমের স্মৃতি।
এই প্রকৃতিকে অপরূপ সৌন্দর্যে সাজানো কদমের অবদানকে অস্বীকার করতে পারেননি স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি তার নানা কবিতা, গান, ছোটগল্পে গেয়েছেন কদমের মাহাত্ম্য। তিনি তার গানে লিখেছেন, ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান। মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে, এই যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান।’
ক্যাম্পাসে কদম ফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আলম ঋতু বলেন, কদম ফুল মূলত প্রকৃতিতে বর্ষার দূতী। কদম এসে জানান দেয় প্রকৃতিতে বর্ষা আসতে আর দেড়ি নেই। কদমের এমন নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে বর্ধিত হয়েছে ক্যাম্পাসের শোভা। এই সৌন্দর্য কোন উপমা দিয়ে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। গাছের ডালে এমন থোকা থোকা কদম দেখে হাতে নেওয়ার লোভ আর সামলাতে পারিনি। হাতে কদমের থোকা নিয়ে ছবি তুললাম প্যারিস রোডে। এ যেন আমার সেই শৈশবকাল।