প্রকাশ: রোববার, ২২ মে, ২০২২, ১০:৩২ এএম আপডেট: ২২.০৫.২০২২ ১২:২১ পিএম

জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে ১০ বছর দণ্ডিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিম আজ আদালতে আত্মর্পণ করবেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করবেন তার আইনজীবীরা।
আইনে বিকল্প পথ না থাকায় কারাগারে যেতেই হচ্ছে হাজি সেলিমকে।
সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন সংসদ সদস্য নৈতিকস্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা অনুযায়ী তার সাজার রায় স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হিসাবে বিবেচিত হবেন না।
হাজি সেলিমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাহমুদ বেলাল গণমাধ্যমকে জানায়, রোববার দুপুর ২টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের ৭নং কোর্টে তিনি আত্মসমর্পণ করতে পারেন।
হাজি সেলিমের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা জানান, হাইকোর্ট তাকে আত্মসমর্পণ করতে ৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন। অর্থাৎ দণ্ডিত হলেও নির্ধারিত ৩০ দিন পর তা কার্যকর হবে। তাই এ সময়ে তিনি এক ধরনের জামিন সুবিধায় আছেন। হাইকোর্টের রায় বিচারিক আদালত ২৫ এপ্রিল গ্রহণ করেন। এ হিসাবে ২৫ মে পর্যন্ত তার আত্মসমর্পণ করার সময় আছে। এ মুহূর্তে আইনি বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিচারিক আদালতের রায় যেহেতু বহাল রাখা হয়েছে এজন্য আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে হবে। এরপর আমরা জামিন আবেদন করব। কারাগারে না গিয়ে জামিন করানোর কোনো সুযোগ নেই। আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করা হবে।
জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে এক যুগ আগে বিচারিক আদালতের রায়ে হাজি সেলিমের ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। এ আপিলের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৯ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেন। তাতে তার ১০ বছরের সাজা বহাল রাখা হয়। ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়সহ নথিপত্র ২৫ এপ্রিল বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সাজাপ্রাপ্ত হাজি সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ-সদস্য পদে থাকার বৈধতা নিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। প্রশ্ন উঠে, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পরে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা বা তাকে এ পদে রাখা নৈতিক বিবেচনায় কতটা সমর্থনযোগ্য হবে।
জে/ আল