
অর্থের বিনিময়ে ধর্ম প্রচার করলেও,আলেমদের ধর্ম ব্যবসায়ী বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ওলামা মাশায়েক আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গাজী আতাউর রহমান।
সোমবার (১৬ মে) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অঙ্গ সংগঠন ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন গাজী আতাউর।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে ‘গণকমিশন’ জঙ্গি অর্থায়ন ও দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে ১১৬ ওয়ায়েজিনের তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেয়। সে প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি সভাপতি নুরুল হুদা ফয়েজী লিখিত বক্তব্যে বলেন, গণকমিশনের অধিকার নেই কোনো নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তি উদ্যোগে বা সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করার।
গণকমিশনের এ তালিকা প্রণয়নের পেছনে বিদেশি গোষ্ঠীর হাত আছে- যারা নির্বাচন এলেই জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের ধোয়া তোলে।
যারা অপরাধ, জঙ্গিবাদ, হত্যার সঙ্গে জড়িত; যাদের নাম ১১৬ জনের তালিকায় রয়েছে- তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক গাজী আতাউর রহমান বলেন, ব্যক্তির অপরাধের দায় কেউ নেবে না। তবে দুয়েকজন ব্যক্তির জন্য সব আলেমদের হেয় করলে মেনে নেওয়া হবে না।
সাংবাদ সম্মেলন থেকে ৮ দফা দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া আগামী ২৮ মে মতবিনিময় সভা ও ২ জুন ওলামা সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এ সংবাদ সম্মেলন থেকে।
জাতীয় ওলামা মাশায়েক আইম্মা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা রেজাউল করিম, উপদেষ্টা ফয়জুল করীম, কেন্দ্রীয় সদস্য হাফিজুর রহমান সিদ্দিক, সদস্য ওমর ফারুকসহ এ সংগঠনের একাধিক সদস্যের নাম ১১৬ জনের তালিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রফিকুন্নবী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রফিকুন্নবী।
উল্লেখ্য, বুধবার দুদক চেয়ারম্যানের কাছে শ্বেতপত্র জমা দেওয়ার সময় কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহাবুব খানও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধদের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনুসন্ধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন গণকমিশনের নেতারা।
পরে সাংবাদিকদের দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, গণকমিশন যে শ্বেতপত্র দুদকে জমা দিয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। শ্বেতপত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেলে সে ব্যাপারে দুদক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
গণকমিশন সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আনুষ্ঠানিকভাবে শ্বেতপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন।