
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাছ কাটার জন্য বারবার সমালোচনার শিকার হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। ক্যাম্পাস বন্ধ হলেই বিভিন্ন অজুহাতে গাছ কাটা হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে ক্যাম্পাস ছুটি হলে মরা গাছ কাটার অজুহাতে আবার ক্যাম্পাসের তরতাজা গাছ কাটা শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এসব গাছ কাটা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক, চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে ক্যাম্পাসের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। গাছগুলো কীভাবে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখা যায় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত ছিল।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উত্তর পাশের বাগানের দুইটি মেহগনি এবং নবাব আব্দুল লতিফ হলের পশ্চিমপাশের বাগানের একটি বিশাল আম গাছ কাটা হচ্ছে। গাছগুলো মরে যাচ্ছে দাবি করা হলেও গাছগুলোতে কচি পাতা লক্ষ করা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প এসব গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। ৩৯ হাজার টাকায় গাছগুলোর টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। গাছগুলো টেন্ডার নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা এলাকার আজিজুল ইসলাম।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের কাছ থেকে ৩৯ হাজার টাকায় গাছগুলো টেন্ডার নিয়েছি। গাছগুলো মারা যাচ্ছে সেজন্য টেন্ডার দিয়েছিল। এখন একটা গাছে দেখছি পাতা বের হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় না বিক্রি করলে কি আমরা গাছ কাটতে পারতাম?’
তবে কৃষি প্রকল্পের সহকারি রেজিস্ট্রার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘গাছ মারা গেছে সেজন্যই টেন্ডার দিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এখন একটি গাছে পাতা ছেড়েছে দেখা যাচ্ছে। অন্য দুইটি গাছ মারা গেছে।’
গাছ কাটার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মনু মোহন বাপ্পা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কি টাকার এতই অভাব পরেছে যে গাছ বিক্রি করছে? প্রতিবারই ক্যাম্পাস বন্ধ হলে গাছ কাটা হয়। শিক্ষার্থীরা থাকলে প্রশাসন গাছ কাটে না। কারণ শিক্ষার্থীরা থাকলে এর প্রতিবাদ করবে। ফাঁকা ক্যাম্পাসে প্রশাসন গাছ কাটে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে এমনিতেই তীব্র গরম থাকে। প্রশাসনের উচিত বেশি বেশি গাছ লাগানো, তা না করে তারা গাছ কাটছেন। প্রশাসনের কাছে দাবি গাছ কাটা বন্ধ করে বেশি বেশি গাছ লাগান।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০টির অধিক বড় বড় গাছ কাটে তৎকালীন প্রশাসন। ২০১৯ সালের শীতকালীন ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে ৫টি বড় মেহগনি গাছ কাটা হয়। ২০২০ সালের এপ্রিলের শেষদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের রাস্তার দুইপাশের পামগুলো কেটে ফেলে তৎকালীন রাবি প্রশাসন। এবং ২০২১ সালের সীমানা প্রাচীর তৈরির নামে সুইপার কলোনির পাশে এক-দেড়শো মেহগনি গাছ কাটা হয়।