ফুলছড়িতে চিকিৎসার অভাবে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২, ১০:০৭ পিএম

টানা তিন ঘন্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন প্রসব বেদনায় কাতর হেলেনা বেগম (২৫) নামে এক গর্ভবতী মা।জলচৌকিতে  করে দীর্ঘ নয় কিলোমিটার দুর্গম বালু চরের পথ হেঁটে পাড়ি দিয়েও তাকে নেওয়া সম্ভব হয়নি কোন ক্লিনিক বা হাসপাতাল। কপালে জোটেনি চিকিৎসা সেবা। তবে লাশ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে জলচৌকির বদলে ভাগ্যে জুটেছে ঘোড়ার গাড়ি। এমন করুণ মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা। 

গত ৩০ মার্চ বুধবার দুপুর দেড় টার দিকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ঘাটে সীমাহীন কষ্ট-অভিমান নিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান হেলেনা বেগম ও তার অনাগত তৃতীয় সন্তান। নিহত হেলেনা বেগম ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের চর কালুরপাড়া গ্রামের দিনমজুর সুজা মন্ডলের স্ত্রী। ১ এপ্রিল শুক্রবার কালুরপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হেলেনা বেগমের রেখে যাওয়া মেয়ে রুমি আক্তার (৮) ও ছেলে মনির (৪) মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অঝরে কাঁদছে। তাদের বুকে নিয়ে শান্তনা দিচ্ছেন বাবা সুজা মন্ডল। 

সুজা বলেন,গত বুধবার সকাল ৯টার দিকে নয় মাসের অন্তঃসত্তা স্ত্রী হেলেনা বেগমের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাকে ফুলছড়ি বা গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। অনেক চেষ্টা করেও একটা ঘোড়ার গাড়ি পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে হেলেনাকে জলচৌকিতে উঠিয়ে কাঁধে করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমিসহ আমার ভাই জসু মন্ডল, রওশন মন্ডল ও ভাগ্নে আসাদুল ফুলছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেই। দুই জন ক্লান্ত হয়ে পড়লে অপর দুই জন জলচৌকি কাঁধে নিয়ে চলতে থাকি। এসময় প্রসব বেদনা-রক্তক্ষরণের কারণে হেলেনা কাতরাচ্ছিল। এভাবে দীর্ঘ নয় কিলোমিটার বালুচর পেড়িয়ে দুপুর দেড়টায় ফুলছড়ি ঘাটে গিয়ে পৌঁছাই। তার আগেই হেলেনা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে দ্রুত তাকে স্থানীয় বাজারের এক ডাক্তারের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক হেলেনা ও তার গর্ভের সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব ও কাছে কোন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র না থাকায় সময় মতো হাসপাতালে নিতে ব্যর্থ হওয়ায়  স্ত্রী-সন্তানকে হারাতে হলো। ফুলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হান্নান মন্ডল বলেন, বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া চরবাসীর চলাচলের প্রধান বাহন নিজের দু'টি পা। বিকল্প ঘোড়ার গাড়ি থাকলেও জরুরি মুহূর্তে সেটাও মেলে না। ফলে অনাকাঙ্খিত এসব ঘটনা ঘটে থাকে যা খুবই বেদনাদায়ক। ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, দুর্গম চরের কেউ অসুস্থ হলে জলচৌকিতে শুইয়ে কাঁধে করে মূল ভ‚খন্ডে আনতে হয়। যা অনেক কষ্ট ও সময় সাপেক্ষ।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft