প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২, ৬:০১ পিএম

রাজধানীতে ডায়রিয়া পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গতকাল আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ভর্তি হন তেরোশোরও বেশি রোগী। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুর না গড়াতেই ভর্তি হয়েছেন সাতশো রোগী।
যে রোগীরা ভর্তি আছেন, হচ্ছেন- তাদের বেশিরভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। রোগীরা জানান, হঠাৎ করেই ডায়রিয়া সঙ্গে শুরু হয় বমি, অল্প সময়ের মধ্যেই অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়, যাতে হাসপাতালমুখী হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না তাদের। এদের অধিকাংশই বাইরে পানি ও খাবার খাওয়ার কথা জানান।
এতো রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল কর্মীরা। চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশই সাধারণ ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তবে এর মধ্যে তীব্র ডায়রিয়া বা কলেরা রোগীও আছে কিছু। ডায়রিয়াই হোক কিংবা কলেরা, চিকিৎসা পদ্ধতি দুটোরই একই।
চিকিৎসকরা আরও জানান, অন্য যে কোনো বছরের চেয়ে এবার ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি। কোনো অবস্থাতেই ফুটানো নয়- এমন পানি পান না করতে পরামর্শ দিয়েছেন তাদের।
ভর্তি রোগীদের একটি বড় অংশ দক্ষিণখান, যাত্রাবাড়ি, মিরপুর, মোহাম্মদপুরের। এই এলাকার পানি কোনোভাবে দূষিত হয়েছে কি না, যার ফল এই ডায়ারিয়া প্রকোপ তা স্বীকার না করলেও উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, কোনোভাবেই পানি না ফুটিয়ে খাওয়া যাবে না।
এর আগে ২০১৮ সালে ঢাকায় ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক বাড়ে। সে বছর এপ্রিলে একদিনে সর্বোচ্চ ১ হাজারের কিছু বেশি রোগী আসে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এই বছর এক মাস আগেই আইসিসিআরবিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ৩৫০ বেডের হাসপাতালে ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি। এক শামিয়ানা নীচে কুলোচ্ছে না। বসাতে হয়েছে দ্বিতীয় শামিয়ানা।
চিকিৎসকরা বলছেন, মহামারির প্রকোপ কমায় মানুষের অসচেতনতা বেড়েছে। কমেছে হাত ধোয়া প্রবণতা।