
সাকিবের মা শিরিন আক্তার হৃদরোগের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন একমাত্র ছেলে আইজাহ আল হাসান ও মেঝো মেয়ে ইরাম হাসান। বড় মেয়ে আলাইনা হাসান ভুগছেন ঠাণ্ডাজনিত জ্বরে। তাদেরকেও এই হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সাকিবের শাশুড়ি বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছেন ক্যান্সারে। তিনি চিকিৎসাধীন আছেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।
এই অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা সাকিব সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো খেলবেন নাকি মাঝপথে দেশে ফিরবেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। যোগাযোগ করা হলে নির্বাচক হাবিবুল জানান, স্বজনদের খোঁজখবর রাখছেন সাকিব, পরিস্থিতি অনুযায়ী নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত, 'দেশে ফেরার ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সাকিব দেশে খোঁজ খবর রাখছেন। দেশে ফেরার প্রয়োজন মনে করলে অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্ট সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।'
জানা গেছে, সাকিবের সন্তানদের অসুস্থতায় তেমন জটিলতা নেই। তারা আছেন উন্নতির দিকে। বিশেষ করে মা ও শাশুড়ির অবস্থার অবনতি হলে তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দেশে ফিরলেও ২৩ মার্চ সেঞ্চুরিয়নে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটা খেলে ফিরবেন তিনি। সেক্ষেত্রে অন্তত প্রথম টেস্টে সাকিবকে নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে স্বজনদের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে পুরো সিরিজ খেলেই দেশে ফিরতে চান সাকিব।
মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত নন বলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে অনিচ্ছার কথা জানিয়ে আলোচনায় আসেন সাকিব। তিনি জানান, প্যাসেঞ্জার হয়ে দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না, তিনি হতে চান চালক। তবে নানান নাটকীয় ঘটনায় শেষ পর্যন্ত তার যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। সেখানে গিয়ে প্রথম ওয়ানডেতেই বাংলাদেশকে জিতিয়ে চালকের আসনে থেকেই ম্যাচ সেরা হন সাকিব। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি রান পাননি, দলও হেরেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এখনো একটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট খেলা বাকি বাংলাদেশ।
সোমবার (২১ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জালাল ইউনুস বলেন, 'সাকিবের মা, তার স্বাশুড়ি, তার দুই সন্তান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছে। খুব সম্ভবত তাদের নিউমোনিয়া হয়েছে। ডেফিনিটলি একটা বড় ক্রাইসিস যাচ্ছে তার ফ্যামিলির ওপর দিয়ে। এদিকে সাকিবের খেলাও চলছে। এখন সে বুঝে উঠতে পারছে না কী করবে। ২৩ মার্চ আরেকটা ওয়ানডে ম্যাচ আছে। ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃতীয় ম্যাচ খেলেই দেশে ফিরে আসবে।'
তবে পরিস্থিতি যদি খারাপের দিকে যায়, সাকিব দেশে ফিরতে পারেন তৃতীয় ওয়ানডের আগেও। জালাল ইউনুস জানালেন সেটাও। কিন্তু পরিস্থিতি আর খারাপের দিকে না গেলে সাকিব যে তৃতীয় ওয়ানডে খেলছেন তা এক প্রকার নিশ্চিত। জালাল ইউনুস বলেন, ‘এ মুহূর্তে যদি সিরিয়াস কোন ক্রাইসিস তৈরি না হয়, তবে তাকে আমরা থার্ড ওয়ানডেতে ডেফিনিটলি পাচ্ছি।’ তবে টেস্ট সিরিজে সাকিব খেলবেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারছেন না বিসিবির এই কর্তা।
টেস্টে সাকিবের খেলা নির্ভর করছে পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াচ্ছে তার উপর। ‘সবকিছু আসলে নির্ভর করছে এখানে (বাংলাদেশ) তার ফ্যামিলি ক্রাইসিসের উপরে, পরিস্থিতির উপরে, সিচুয়েশন কেমন তার উপর বেস করে সে হয়তো সিদ্ধান্ত নেবে।’
এর আগে দল সূত্রে জানা গিয়েছিল, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই ঢাকায় পরিবারের খবরাখবর নিচ্ছেন সাকিব। খেলা চালিয়ে যাবে কি না তখনও কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরবর্তী অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এমনটা বলা হয়েছিল। এবার জালাল ইউনুসের বক্তব্যে পরিষ্কার হলো বিষয়টা। সাকিবের এই ফ্যামিলি ক্রাইসিসে বোর্ড তার পাশে দাঁড়াচ্ছে।