প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি এগিয়ে চললেও আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে সংস্থাটি সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য বিবেচনায় বিষয়টি আরও কিছু সময় পর বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে।
তবে সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও সচিবালয় সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, এটি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশনসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এদিকে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের কোনো মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ হয়নি।
সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সচিব কমিটির সুপারিশ, আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়ন কৌশল এবং আইএমএফের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জ/উ