
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান এই সংকটের প্রভাবে শিল্প উৎপাদন, আবাসিক গ্যাস সরবরাহ, সিএনজি স্টেশন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন-সব ক্ষেত্রেই চাপ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।
দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট। তবে দুর্ঘটনার আগেও সরবরাহ ছিল ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত পেট্রোবাংলার ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত সপ্তাহে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। এতে টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ করছেন। আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস অতিরিক্ত সরবরাহ করা যেতে পারে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও কিছু সময় লাগবে।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। রাজধানীর মগবাজার, রামপুরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, বাড্ডা, বাসাবো ও কাফরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নায় ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে এলপিজি, বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে।
শিল্প খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের গ্যাসনির্ভর পোশাক, টেক্সটাইল ও নিটওয়্যার কারখানাগুলোর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, অনেক কারখানা স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, আগে দৈনিক প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও বর্তমানে তারা পাচ্ছে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করায় শিল্প ও আবাসিক খাতে সংকট আরও বেড়েছে।
এদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেক স্টেশন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় সীমিত সময় সেবা দিচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বড় ধরনের লোডশেডিং এড়ানো গেলেও চাহিদা বাড়লে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
জ/উ