প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১:২৯ পিএম

গোপালগঞ্জের জেলা শহর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক ৩ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোপালগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সোহেল সিকদার,গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী ফারজানা ইসলাম তন্বী এবং শহর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহানেওয়াজ খান।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান ওই ৩ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর মামলায় সোহেল সিকদারকে,ঢাকার একটি মামলায় ফারজানা ইসলাম তন্বীকে এবং সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের মামলায় শাহানেওয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী স্ত্রী, সন্তান ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী গ্রামের নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ওই দিন বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় তাদের গাড়িবহরে হামলা হয়। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা গাড়িবহরে হামলা করেন বলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন। এতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শওকত আলী (দিদার) নিহত হন। এ ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর নিহত দিদারের স্ত্রী রাবেয়া রহমান বাদী হয়ে ১ হাজার ৬১৭ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মো: হায়দার আলী বাদী হয়ে ১ হাজার ৬৬৬ জনকে আসামি করে গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩২ জন ও গাড়ি ভাঙচুর মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে গত ১০ আগস্ট বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর বাসস্ট্যান্ডে দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় সেনাবাহিনীর টহলরত গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২২ আগস্ট সদর থানায় একটি মামলা হয়। মামলায় ৩ হাজার ৩০৬ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।