প্রকাশ: রোববার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৫:০৬ পিএম

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ করে কমলাপ্রেমী ও পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন কমলা চাষী বদরুল আলম বুলু। বাগানটি গড়ে উঠেছে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নিতাইশাহ মোড়ের পাশে। সেখানে ১০ বছর মেয়াদী জমি লীজ নিয়ে খোদাতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে বদরুল আলম বুলু বাগানটি গড়ে তুলেছেন।
আড়াই বছর আগে ঠাকুরগাঁও ও ঝিনাইদহ জেলা থেকে ২৫০টি দার্জিলিং কমলার চারা নিয়ে এসে পরিক্ষামূলক ভাবে রোপন করেন।
বদরুল আলম বুলু জানান, তার লীজকৃত ১ একর জমিতে কমলার চারা রোপন করেছেন। আড়াই বছর পর তার প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় কমলা ঝুলছে। তার বাগানের নাম দেওয়া হয়েছে ব্লু গার্ডেন এন্ড নার্সারী। সাইনবোর্ড সহ তার বাগানের দিকে চোখ পড়ে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকৃত লোকজনের। কিন্তু তার এই উৎসাহ উদ্দীপনায় কিছুটা বাঁধ সেজেছে কমলার ঋতুকালীন রোগ সান বার্ন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তার বাগানের কিছু গাছের কমলায় এ রোগ।
বদরুল আলম বুলু জানান, আর্থিক সংকটের কারনে সে গ্রীণ নেট দিতে পারছেন না। পুরো বাগানে এ নেট দিতে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার প্রয়োজন। তাই তিনি কিছুটা হতাশায় ভুগছেন।
তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসেই তার বাগান থেকে কমলা সংগ্রহ করা সম্ভব। কমলা চাষে তার এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। আরও ১ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জাতের কমলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু তিনি যদি তার বাগানের কমলা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রিও করেন তার সম্ভাব্য ১০ লক্ষ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে ২ বার তিনি বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। ফলটি মূলত শীতপ্রধান দেশের কিন্তু বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার দেশ হওয়ায় কমলা এ রোগ দেখা দেয়। সে জন্য গাছে ফল আসার পর উপরে ছায়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে এ রোগ থেকে রেহায় পাওয়া সম্ভব। আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কারিগরী সহযোগিতা দিয়ে আসছি।