স্বর্ণের নতুন করিডর হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৪, ৯:৪৯ পিএম আপডেট: ১৮.১১.২০২৪ ৯:৫৬ পিএম

ইউরোপকে টপকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের নতুন করিডর হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। আর এর কেন্দ্রস্থল হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসভুক্ত সদস্যদের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক করিডোর চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের বৈশ্বিক বাজারে নতুন এই কেন্দ্রস্থল দখলের লড়াইয়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আমিরাত। কারণ এই বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকস জোটে যোগ দেয় দেশটি। 

উপসাগরীয় শীর্ষ ধনী দেশ আমিরাত ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম কেন্দ্রস্থল। গত বছর (২০২৩ সাল) যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো তৃতীয় অবস্থান থেকে উতরে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আমিরাত। এখন পর্যন্ত এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। যা শিগগিরই ইউরোপীয় দেশটিকে হারাতে হবে আমিরাতের দাপটের কাছে।  

দুবাই মাল্টি কমোডিটিজ সেন্টার (ডিএমসিসি)-এর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতকে ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর অন্যতম ‘বিকল্প’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শক্তিশালী জোট ব্রিকসভুক্ত শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলো হচ্ছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।

ডিএমসিসি-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান এবং সিইও আহমেদ বিন সুলাইয়েম বলেন, 'আমরা মূল্যবান ধাতুর বাজারে ঐতিহাসিক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছি। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ কেনা শুরু করেছে এবং অনেক দেশ মার্কিন ডলারের ওপর তাদের নির্ভরতা পুনর্বিবেচনা করছে।' 

তিনি আরও বলেন, 'আমরা এশিয়ার মধ্যে স্বর্ণের একটি নতুন করিডোরের যাত্রা শুরু হতে দেখতে পাচ্ছি, যার কেন্দ্রে রয়েছে দুবাই। যা গত বছর আমিরাতকে বিশ্বে স্বর্ণের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।' 

দুবাই এবং আমিরাতের উর্ধ্বমূখী অবস্থান: এখানে কয়েকটি বিষয় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে যা দুবাই এবং আমিরাতকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশগুলোর মধ্যে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে। ব্রিকস জোটের সম্প্রসারণ যেখানে সৌদি আরবও নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে। আসন্ন স্বর্ণের বাজারে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ সৌদি।

বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের বাণিজ্যে পরিবর্তন: আমিরাতের বর্তমান স্বর্ণের বাণিজ্যের পরিমাণ ১২,৯০০ কোটি ডলারের বেশি। বাণিজ্যিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিকসের মাধ্যমে বাণিজ্যে চলমান ধারা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পণ্য চলাচলে পরিবর্তন আসবে। চীন এবং ভারত, যারা বিশ্বের প্রথম এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের ভোক্তা তারা ব্রিকসের সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে। এর ফলে শিগগিরই স্বর্ণের বাণিজ্য এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও রুটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

আমিরাত-ভারত সেপা চুক্তি: ব্রিকসের পাশাপাশি আমিরাতের সঙ্গে ভারতের  সেপা চুক্তি (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) রয়েছে। এর ফলে ভারতে স্বর্ণ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আমিরাত থেকে ভারতে স্বর্ণ আমদানির ওপর বর্তমানে ৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে, যেখানে অন্যান্য বাজার থেকে মূল্যবান ধাতুটির আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে গুনতে হয় ৬ শতাংশ শুল্ক। এই চুক্তির আওতায় এ বছরই ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত আমিরাত থেকে ১৬০ টন স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে। 

স্বর্ণের মজুদে নিরাপত্তা: দুবাইয়ের প্রতিষ্ঠান ডিএমসিসি'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ’ বিশেষ করে রাশিয়ার ওপর (পশ্চিমা দেশগুলোর) নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়া দিয়েছে। এর ফলে ক্ষুব্ধ দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে স্বর্ণের মজুদকে নিরাপত্তা হিসেবে পুনর্বিবেচনা করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ কেনার কার্যক্রম বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে আনছে। কিছু দেশ এমনকি মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণ ব্যবহার করে বাণিজ্য করছে।' এই পরিবর্তন স্বর্ণের দর অভূতপূর্বভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft