হলিউডের শুটিং সেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অভিনেতাদের অপেক্ষা করা কিংবা পরিচালকের রিটেকের পর রিটেক নেওয়া- খুবই সাধারণ এক দৃশ্য। কিন্তু সেই সেটে যদি হাজির হন লিওনেল মেসি, তবে নিয়মের হিসেব-নিকাশ পাল্টে যায় এক নিমিষেই।
বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা আর আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী মাঠে যেমন নিখুঁত সময়জ্ঞানের জন্য পরিচিত, মাঠের বাইরে ক্যামেরা লাইট অ্যাকশনের জগতেও তাঁর চলন ঠিক তেমনই ‘মিলিটারি প্রিসিশন’ বা সামরিক কঠোরতায় বাঁধা।
ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর বিশ্ব ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে বড় বিপণনমুখগুলোর একটি হয়ে উঠেছেন মেসি। বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো তাঁকে নিজেদের বিজ্ঞাপনে পেতে মুখিয়ে থাকে। কিন্তু হলিউড অভিনেতা স্টিভ ক্যারেল কিংবা প্রযোজনা সংস্থাগুলো এবার যা টের পেল, তা হলো—ক্যামেরার সামনে মেসির সময় মেপে দেওয়া থাকে মাত্র আধঘণ্টা! ৩০ মিনিট শেষ তো শেষ, এরপর তিনি সোজা বলে দেবেন—‘ভামোস’ (চললাম)!
সম্প্রতি আমেরিকান স্পোর্টস টক শো ‘দ্য ড্যান প্যাট্রিক শোতে’ এসে মেসির এই কড়া নিয়মের কথা ফাঁস করেছেন হলিউডের বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা উইল ফেরেল। আলু চিপস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘লেসের’ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ফেরেল বলেন, তাঁর সহ-অভিনেতা স্টিভ ক্যারেলের কাছ থেকেই তিনি শুনেছেন মেসির এই কড়া প্রটোকলের কথা।
উইল ফেরেলের ভাষায়, ‘আমি স্টিভ ক্যারেলের সঙ্গে কথা বলছিলাম, যে মেসির সঙ্গে দেখা করেছে। স্টিভ ছিল লেসের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনে, আর আমি ছিলাম আমেরিকার ভেতরের প্রচারণায়। যতটুকু শুনেছি, মেসি সেটে এলে তাঁর একটা বাঁধাধরা নিয়ম থাকে। আপনি বিজ্ঞাপনের সেটে মেসিকে পাবেন ঠিক ৩০ মিনিট, ব্যস ওটুকুই!’
৩০ মিনিটের এই কঠোর সময়সীমার কারণে পরিচালকদের সেটে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে যায়। সাধারণত চলচ্চিত্র বা বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে নানা কারিগরি দেরি হয়, বারবার রিটেক নেওয়া হয়। কিন্তু মেসি সেটে পা রাখা মাত্রই ক্রু সদস্যদের মধ্যে তাড়াহুড়ো লেগে যায়- যেভাবেই হোক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব শট ওকে করতে হবে। ফেরেল রসিকতা করে যোগ করেন, আপনাকে দ্রুত সব শট শেষ করতে হবে, তা না হলে ও চলে যাবে। ও বলবে- ভামোস!
মাঠের বাইরে বিজ্ঞাপনের সেটে এই ৩০ মিনিটের কঠোর প্রটোকল মেনে চললেও, মাঠের ভেতরে মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য এক বিশাল অনিশ্চয়তার মেঘ জমাট বেঁধেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর মেসির জাতীয় দল ছাড়া নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেসও ইঙ্গিত দিয়েছেন, মেসি হয়তো আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন। পারেদেস বলেন, ‘আমার মনে হয় ও সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। তবে আমি আশা করি সে খেলা চালিয়ে যাবে। সিদ্ধান্তটা অবশ্যই তাঁর।’
হলিউডের নামী তারকারাও সেটে যাঁর জন্য ঘড়ি ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন, সেই লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল নিয়ে চূড়ান্ত কী ঘোষণা দেন- এখন সেটির জন্যই অপেক্ষা করছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর কোটি কোটি ভক্ত।
জ/বা