
দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষিত বেকার যুবক রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশে এখন প্রায় ৪ কোটি শিক্ষিত বেকার যুবক রয়েছে। একটি পদের জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ আবেদন জমা পড়ে। এমনকি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছোট পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও হাজার হাজার আবেদন এসেছে। এই বেকারত্ব রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য নতুনভাবে পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড় করানো বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও নানা কারণে কঠিন হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও দেশের উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। পরিবর্তন আনতে সময় লাগে এবং সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, সরকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে **‘অ্যাগ্রিকালচার হাব’** হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতি হতে হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে। তাঁর ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ চলছে, যা আত্মবিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।
জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গ্যাস ও জ্বালানির সংকট উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি ও গ্রিন এনার্জির ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।