জবি শিক্ষকের ওপর হামলা, আসামি মাহিম কারাগারে
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাইসুল ইসলাম ও তার পিতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি এহসানুর হক মাহিমকে (২২) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মাহিমকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী রবিবার (১২ এপ্রিল) মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আসামির ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের আইনজীবী খালিদ হোসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপককে মারধর করার মতো ঘটনা উদ্বেগজনক। ওই শিক্ষক মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ ওই এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো।

আরও পড়ুন : আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ আসামিপক্ষের আইনজীবী

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। মামলা সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে আড্ডাবাজি ও মাদক সেবন করে আসছিল অভিযুক্ত মাহিম। বিষয়টিতে বাঁধা প্রদান করলে তিনি বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।

ঘটনার দিন শিক্ষক রাইসুল ইসলামের পিতা নজরুল ইসলাম (৬৭) অভিযুক্তকে আড্ডা দিতে নিষেধ করলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুসি ও লাথি মারেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা চোখের নিচে লেগে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

আরও পড়ুন : হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সালের অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড

এ ঘটনায় শিক্ষক রাইসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার পিতার পকেটে থাকা নগদ প্রায় ৬ হাজার টাকা অভিযুক্ত কৌশলে নিয়ে যায়। এছাড়া ঘটনার পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। পরে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।

এদিকে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আদালতে আসামিকে তোলার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, 'ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।'

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft