প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা হবে ৪০০ নম্বরে: নতুন নীতিমালা জারি
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫০ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নীতিমালা গতকাল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এ নীতিমালা ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে। নতুন নীতিমালার আলোকে ২০২৬ সাল থেকে বৃত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাও এই নীতিমালার আলোকেই অনুষ্ঠিত হবে।

যোগ্যতা ও হার: নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এনসিটিবি’র পাঠ্যক্রম অনুসরণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেম ‘আইপিইএমআইএস’-এ সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন : এক টেবিলে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির-ছাত্রশক্তি-ছাত্র ইউনিয়ন

পরীক্ষার বিষয় ও মানবণ্টন: নীতিমালা অনুযায়ী, এ বছর বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরে হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় আর প্রাথমিক বিজ্ঞান (সমন্বিত) বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ নম্বর করে বরাদ্দ থাকবে।

প্রতিটি বিষয়ের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে। তবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয়ে একজন শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

বৃত্তির ধরন ও কোটা: নীতিমালা অনুযায়ী, দুই ধরনের বৃত্তি প্রদান করা হবে- ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ। উভয় ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী নির্বাচিত হবেন। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ট্যালেন্টপুল বৃত্তি প্রদান করা হবে উপজেলা বা থানা ভিত্তিক মেধার ক্রমানুসারে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়কে ইউনিট হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একজন মেধা কোটাসহ মোট ৫টি সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : ঢাবিতে প্রথমবর্ষে ভর্তি : শিক্ষার্থীদের জরুরি ৩ নির্দেশনা

বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করবে, যার উপদেষ্টা থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং সভাপতি থাকবেন সচিব। এছাড়া জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর নেতৃত্বে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম বা অবহেলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনার বিধান রয়েছে নীতিমালায়। এ নীতিমালা জারির পূর্বে ২০০৮ সালে জারিকৃত প্রাথমিক শিক্ষা বৃত্তি নীতিমালাসহ এ সংক্রান্ত জারিকৃত সকল নীতিমালা রহিত বলে গণ্য হবে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft