বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১১ পিএম

বাংলাদেশকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ চেয়ে করা জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগ এনে এই আবেদন করেছিলেন ভারতের এক আইনশিক্ষার্থী।

বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর আপত্তি তোলেন। আদালত বলেন, এই মামলায় যে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে, তা পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত।

শুনানির শুরুতেই বেঞ্চ আবেদনটির প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং মন্তব্য করেন যে আদালতকে কোনো বিদেশি দেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বা ভারতের বিচারিক সীমার বাইরে গিয়ে তদন্ত করতে বলা যায় না। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা বা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে না।

আরও পড়ুন : ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিল জার্মানি

আদালত আরও উল্লেখ করেন যে আবেদনকারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও নির্দেশনা চেয়েছেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো রিট এখতিয়ার নেই।

বেঞ্চ আবেদনকারীকে সতর্ক করে জানান, এই ধরনের মামলা পিআইএল এখতিয়ারের অপব্যবহার এবং এতে বিচারিক সময় নষ্ট হওয়ায় ভারী জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।

শুনানিকালে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বিসিসিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত হয়ে জানান যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকেও মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।

বেঞ্চ বারবার আবেদনকারীকে সতর্ক করেন যে আদালত বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট জারি করতে পারে না কিংবা ভারত সরকারকে কোনো নির্দিষ্টভাবে অন্য দেশের সঙ্গে আচরণ করতে নির্দেশ দিতে পারে না। প্রধান বিচারপতি জোর দিয়ে বলেন, কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া কল্পনা বা ব্যক্তিগত ধারণার ওপর ভর করে পিআইএল দায়ের করা যায় না।

আরও পড়ুন : ক্লাব বোডোর কাছে হেরেছে ম্যানসিটি

আদালত আবেদনকারীর সেই যুক্তিও খারিজ করে দেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করেন। বেঞ্চ মন্তব্য করেন, ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না।

বেঞ্চের ধারাবাহিক আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত আবেদনকারী পিআইএলটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আবেদন প্রত্যাহার করা হলে প্রধান বিচারপতি তাকে গঠনমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, এ ধরনের আবেদন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় ও অকারণে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সূত্র: এনডিটিভি

জ/ই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft