রোববার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
 

রাজশাহীর জনসভায় নৌকায় ভোট চাইবেন প্রধানমন্ত্রী: কাদের    পুলিশ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী    রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা, যেতে ৭ ট্রেন ভাড়া    ‘নীরব যাত্রায়’ সরকারের পতন ঘটাব হুঁশিয়ারি বিএনপি মহাসচিবের    আমরা একটা সময় নিজেদের মনে করতাম ভিক্ষুক: আইনমন্ত্রী    ৮৫ বছর পর বন্ধ হয়ে গেল বিবিসি আরবি রেডিওর সম্প্রচার    দেশে ১৬ দিন পর করোনায় মৃত্যু, মোট ২৯ হাজার ৪৪২ জন    
মানিকগঞ্জে হাজারী গুড়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে খেজুর গাছ
অপু সাহা, হরিরামপুর , ( মানিকগঞ্জ ) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: রোববার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ৬:০৮ অপরাহ্ন

শিশির ভেজা ঘাস ও কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীত আসছে। আগমনী বার্তা পেয়ে খেজুর গাছ প্রস্তুতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গাছিরা।


কারণ খেজুরের রস ও পিঠা না হলে শীত জমে না। শীতের আবহে সবকিছুই যেন বদলাতে শুরু করেছে। হাতে দা, বাটাল, নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচা-ছোলা ও নলি বসানোর কাজ করছেন গাছিরা। 

কয়েকদিন পরেই গাছে বাঁধানো হবে হাঁড়ি। এরপর চলবে রস সংগ্রহের কাজ। সেই রস থেকেই খেজুরের গুড় পাটালি তৈরি করা হবে।


বিশেষ করে হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার খেঁজুর গাছ ও হাজারী গুড় আমাদের দেশের এক বিশাল কৃষিভিত্তিক লোকায়ত সম্পদ। ব্রিটিশ শাসনামলে এই গুড়ের সুনাম এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।

 এখনো এই গুড়ের কদর দেশ বিদেশে রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছগুলোকে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।


ঝিটকা মধ্য পাড়া গ্রামের গাছি আলম জানান, ১৯৮২ সাল থেকে আমি খেজুর গাছ ঝোড়া ও গুড় তৈরীর কাজ করি। আরোও ২০ থেকে ২৫ দিন পরে হাজারী গুড় পাওয়া যাবে।

 তিনি আরও বলেন, খেজুর গাছের সংখ্যা এখন কমে যাওয়ায় রস ও গুড়ের দাম বেশি। কিন্তু এরপর চাহিদা আছে।


ঝিটকা উজানপাড়া গ্রামের গাছি করিম মোল্লা জানান, "বাড়ির গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ কাটি। প্রতি বছরই আমরা গুড় বানাই। তবে আগের মতো এখন আর গাছ নাই। রসও তেমন হয় না।

 নিজস্ব গাছ কম থাকায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে গাছ প্রতি ৫০০ টাকা করে কিনে নিয়ে কাটি। লাল গুড়ের পাশাপাশি হাজারি গুড় বানাই। এ বছর শতাধিক গাছ প্রস্তুত করেছি। ১৫ দিন পর থেকেই রস নামতে পারে।"


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গফ্ফার বলেন, ‘কালের বিবর্তনে আমাদের দেশের খেজুর গাছগুলো অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশি বেশি খেঁজুর গাছ রোপণ করে এর চাষ বাড়ানো প্রয়োজন। 

এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই খেজুরের গুড়ের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে এবং গাছিরাও লাভবান হবে।’


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হরিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়। এই গুড় মানিজগঞ্জ জেলা ব্র্যান্ড। কিন্তু কিছু অসাধু গাছিরা বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করছে। 

যা সুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছরই ভেজাল রোধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ বছরও ভেজালরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175,+8801711443328, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft