রোববার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
 

রাজশাহীর জনসভায় নৌকায় ভোট চাইবেন প্রধানমন্ত্রী: কাদের    পুলিশ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী    রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা, যেতে ৭ ট্রেন ভাড়া    ‘নীরব যাত্রায়’ সরকারের পতন ঘটাব হুঁশিয়ারি বিএনপি মহাসচিবের    আমরা একটা সময় নিজেদের মনে করতাম ভিক্ষুক: আইনমন্ত্রী    ৮৫ বছর পর বন্ধ হয়ে গেল বিবিসি আরবি রেডিওর সম্প্রচার    দেশে ১৬ দিন পর করোনায় মৃত্যু, মোট ২৯ হাজার ৪৪২ জন    
বাড়ি ফিরলেন লিমন, তবে লাশ হয়ে
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২, ৫:২৬ অপরাহ্ন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বাড়িতে লিমন কুমার রায় ফিরেছেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। লিমন মাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন পরীক্ষা শেষে বাড়িতে আসবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের ১০ তলার ছাদ থেকে পড়ে মারা যাওয়া লিমনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছেছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার ২৪ নভেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লিমনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।

এর আগে, বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন লিমন। সকাল সাড়ে ১০টায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লিমন কিশোরগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নের দোলাপাড়ার রিকশাচালক প্রভাষ চন্দ্র রায় ও কিষানি নীলা রানী রায় দম্পতির ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (আইইআর) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন জগন্নাথ হলের সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ভবনের একটি কক্ষে।

প্রভাষ চন্দ্র রায় ও নীলা রানী রায় দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে লিমন ছিলেন সবার বড়। সম্বল বলতে বাড়ির চার শতক জমি। প্রভাষ কখনো রিকশা চালিয়ে আবার কখনো কৃষি শ্রমিকের কাজ করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও সংসার খরচ চালাতেন।

লিমন ২০১৭ সালে মাগুড়া শিঙ্গের গাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৯ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেন। দুই পরীক্ষাতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। তার ছোট ভাই সুমন রায় দশম এবং ছোট বোন অর্পিতা রায় পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। তার মা নীলা রানী রায় একজন গৃহিণী।

লিমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা নীলা রানী আঙিনায় গড়াগড়ি দিয়ে বিলাপ করছেন। তাকে সামলানোর চেষ্টা করছেন স্বজনরা। আরেক দিকে বাবা আহাজারি করছেন। আত্মীয়-স্বজনও শোকে মূহ্যমান। তার মৃত্যুর খবরে  বাড়িতে ভিড় করেছেন প্রতিবেশীরা।

প্রতিবেশী ভুজঙ্গ চন্দ্র রায় বলেন, ঢাকা শহরে রিকশা চালিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করাতেন বাবা প্রভাষ। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল অভাবের সংসারে সুখ আসবে ছেলের হাত ধরে। সেই ছেলেকে হারিয়ে সব স্বপ্ন যেন নিমেষেই শেষ হয়ে গেল তাদের। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারটি যেমন নির্বাক, তেমনি গ্রামবাসীও হতবাক।

বাবা প্রভাষ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার লিমন এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারে না। এর পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে। সে থাকত জগন্নাথ হলে ষষ্ঠ তলায়, কিন্তু দশ তলায় সে কেন যাবে? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।

লিমনের স্কুলশিক্ষক মিথুন কুমার রায় বলেন, দরিদ্র বাবার সন্তান লিমন ছিল মেধাবী। সে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এলাকায় নম্র, ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র হিসেবে ওর পরিচিতি রয়েছে। ওর মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মাগুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান মিঠু বলেন, লিমনের বাবা খুবই অসহায়, গরিব। রিকশা চালিয়ে তার লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। তাকে নিয়ে বাবা-মায়ের অনেক আশা ছিল। সে লেখাপড়া শেষ করে সংসারের হাল ধরবে। তার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে গেল। পরিবারটির পাশে আমি সব সময় আছি। পাশাপাশি সরকার এই অসহায় পরিবারটিকে যেন একটু দেখে।


-জ/অ



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175,+8801711443328, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft