শুক্রবার ৭ অক্টোবর ২০২২ ২২ আশ্বিন ১৪২৯
 

বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা, গ্রেফতার ৩, ৮ রিভলবার-গুলি উদ্ধার    আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী পণ্ড করল ছাত্রলীগ    টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা    ওয়েটার থেকে শতকোটি টাকার মালিক মুক্তার, আইনের আওতায় আনার চেষ্টায় গোয়েন্দারা    করোনায় মৃত্যু ৫, শনাক্ত ৪৯১    ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ভর্তি ২৪০    শান্তিতে নোবেল গেল বেলারুশ, ইউক্রেন ও রাশিয়ায়   
মাদারীপুরের ৭ যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২, ১০:২৮ অপরাহ্ন

পরিবারের চাহিদা মেটাতে উন্নত জীবিকার আশায় মাদারীপুরের অনেক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানদের পাঠানো হচ্ছে লিবিয়ায দিয়ে ইটালিতে। ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো রবিন সিকদারের মা নুরজাহার কান্নাকন্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা দাবি করছে দালাল হারুন ।

এখন আমি এতো টাকা কোথায় পাবো? হারুন দালালের মাধ্যমে লিবিয়া দিয়ে ইতালিতে পাঠানোর কথা হয়েছিলো ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়।হারুন দালাল আমার ছেলেকে লিবিয়ায় বন্দী রেখে অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। এর কয়েক মাস পরে ঐ দালাল আমাদের কাছে আরো ৯লাখ ৫০হাজার টাকা দাবি করে। না দিলে আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হবে এ হুমকি চলেছে।

এবং অত্যাচার করার দৃশ্য মোবাইল ফোনে দেখায়। এর পরে আমরা তাকে আমাদের জমি ঘর বাড়ি বিক্রি করে ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিলে কয়েক দিন যোগাযোগ করতে পারি। হঠাৎ  করে  ১০লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে  আমার ছেলেকে মারধোর করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ইমোতে কল দিয়ে তা আমাদের দেখায়। আমরা এখন নিরুপায়।   

টাকা না দেওয়ার কারণে ছেলের সাথে যোগাযোগ এখন আমাদের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে মাফিয়া দালাল। এখন আমার ছেলেকে ফেরত আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই। আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’

৫ মাস আগে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় পাড়ি জমান মাদারীপুরের সাত যুবক।এর মধ্যে  লিবিয়ায় পৌঁছালেও এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।

তাদের স্বজনরা জানান, লিবিয়ায় ওই যুবকদের জিম্মি করে বাড়িতে ভিডিও কল দিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে তাদের নির্যাতনের হুমকি দিয়েছে জিম্মিকারীরা।

এসব পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণের টাকা দেয়ার সাধ্য তাদের কারও নেই। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আকুতি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ বলছে, মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওই ৭ যুবক হলেন মাদারীপুর সদর  উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আবুল হোসেন হাওলাদারের ছেলে রকিব হাওলাদার, আবদুল হাকিম খলিফার ছেলে এলেম খলিফা, সিরখাড়া ইউনিয়নের রব সিকদারের ছেলে রবিন সিকদার ,বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিথাপুর গ্রামের ফুকু বেপারীর  ছেলে জসিম বেপারী,মিঠাপুর এলাকার  আসমত আলীর মোল্লার  ছেলে ইব্রাহীম মোল্লাসহ আরো অনেকে।তাদের বয়স ১৯ থেকে ২১ বছরের মধ্যে।

লিবিয়ায় বন্দী রবিন সিকদারের মামা ইব্রাহিম মোল্লা বলেন,,হারুন দালালের মারফত লিবিয়া পৌছানোর কয়েকদিন পর অর্থাৎ ( ২৬ মে২০২২) রবিন সিকদার শিমিয়া থেকে ফোন কল করে জানায় দাদাল হারুন তাকেসহ আরো কয়েকজনকে অন্য মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন যদি আরো নয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এই মুহুর্তে না  দেওয়া হয়  তাহলে মাফিয়ারা তাকে মেরে ফেলবে।  এখন নিরুপায় আমরা সরকারের সাহায্য সহযোগিতা চাচ্ছি।

পরিবারগুলো জানায়, ইতালি যেতে চন্ডিবর্দি এলাকার হারুন দালালের সঙ্গে কথা হয় তাদের।আলোচনায় ঠিক হয়, তাদের লিবিয়া হয়ে ইতালি নিয়ে যাওয়া হবে। জনপ্রতি সাড়ে ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, হারুনের কাছে সাড়ে ৯ লাখ ৬৫হাজার টাকা করে পরিশোধ করে ওই ৭ যুবকের পরিবার।

এরপর লিবিয়ার উদ্দেশ্যে তারা দেশ ছাড়েন দেড় মাস আগে। এরই মধ্যে তারা লিবিয়ায় গিয়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে গত ২৬ মে ইটালি যেতে সাগর পাড়ি দেয়ার কথা বলে নিয়ে তাদের জিম্মি করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এরপর প্রত্যেক যুবকের পরিবারের কাছে তাদের সন্তানদের দিয়ে ভিডিও কল করিয়ে ৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।এক মাস না যেতেই আবার ১০লাখ টাকা দাবি করেন।

ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো এলেম খলিফার  বাবা আবদুল হাকিম খলিফা  বলেন, ‘আমার ছেলেকে জিম্মি করে ৯ লাখ টাকা দাবি করছে। এখন আমি এতো টাকা কোথায় পাবো? যে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাঠিয়েছি, তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না।

‘এখন আমার ছেলেকে ফেরত আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই। আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’

ইউনুস  শেখের বাবা সিরাজ শেখ বলেন, ‘ধার-দেনা করে পোলারে বিদেশ পাঠাইলাম। এখন আর টাকা দেয়ার মতো সাধ্য আমার নেই। দালালের ধর্না দিয়েও কোনো কাজে আসছে না।টাকা না দিতে পারায় আমার ছেলের সাথে আজকে পাঁচ মাস ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে  মাফিয়ারা।

‘কীভাবে আমার সন্তানকে পাব? সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই, আমি আমার পোলা ফেরত চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চন্ডিবর্দি এলাকার দালাল হারুনের ইমু ও হোটাসআপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। মেসেজ দিয়েও তার সাড়া মেলেনি।

তার গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করলে, কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। অপরদিকে দালাল হারুন দালাল গ্রামের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মানবপাচার মামলা করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্তদের খুঁজে বের করা হবে।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175,+8801711443328, E-mail: dailyjobabdihi@gmail.com, jobabdihionline@gmail.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft