ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারির উচ্ছ্বাসে বোঝা যাচ্ছিল, ঘরের মাঠে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান ও জাস্টিন এলিসকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা। তবে সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ১৬ বছর বয়সী তরুণ কাভান সুলিভান। মাঠে নামার পর স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর ছিল এই উদীয়মান তারকার দিকে।
শনিবার রাতে পেরুর বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শুরুর একাদশে অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানের। তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৩৬২ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেকের রেকর্ডটি এখনো ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৬ সালে ১৬ বছর ২৩৪ দিনে জাতীয় দলে অভিষেক করেছিলেন তিনি।
অভিষেক ম্যাচে ৬২ মিনিট মাঠে ছিলেন সুলিভান। গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করতে না পারলেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার জন্য নিজের প্রস্তুতির জানান দিয়েছেন তিনি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেরুর রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার চ্যালেঞ্জ করেন এই তরুণ। তবে অতিরিক্ত আগ্রাসী হয়ে ওঠায় পেরুর গোলরক্ষক পেদ্রো গায়েসেকে ফাউল করে হলুদ কার্ডও দেখতে হয় তাকে।
নিজের অভিষেককে গোল বা অ্যাসিস্ট দিয়ে স্মরণীয় করতে না পারলেও সুলিভানের সতীর্থ তরুণরা ম্যাচটিকে নিজেদের করে নেন। ঘরের দর্শকদের সামনে ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্স ফ্রিম্যান।
এরপর মাঠে নেমে ১৭ বছর বয়সী উইঙ্গার ম্যাথিস অ্যালবার্ট একটি পেনাল্টি আদায় করে নেন। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান মালিক তিলম্যান।
পরে ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হল সেবাস্তিয়ান বেরহাল্টারের দারুণ ক্রস থেকে দর্শনীয় গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন। ম্যাচের শেষ গোলটিও আসে বেরহাল্টারের পা থেকে। দূরপাল্লার নিখুঁত এক কার্লিং শটে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
অবশ্য প্রথমার্ধে কিছুটা দৃষ্টিকটু একটি গোল হজম করতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। পেরু আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল, যা কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর জন্য হতাশার কারণ হতে পারে। তবে ১১ জনের অভিষেক এবং আটজন কিশোরকে নিয়ে গড়া দলের জন্য নেতিবাচক দিকের তুলনায় ইতিবাচক দিকই ছিল বেশি।
পেরুর বিপক্ষে এই জয় পচেত্তিনোর দলকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের রসদ দিয়েছে। সেই ভিত্তি আরও শক্ত করার সুযোগও রয়েছে তাদের সামনে। চলমান এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও তিনটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।
জ/শা