খাবার শেষ করার এক ঘণ্টার মধ্যেই অনেকের আবার তীব্র ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে। বিষয়টি পরিচিত মনে হলেও এর কারণ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। শুধু পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়াই নয়, খাবারের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের ঘাটতি কিংবা মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে খাবার খাওয়ার পরও দ্রুত ক্ষুধা লাগতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, খাওয়ার পরপরই ক্ষুধা পাওয়ার সম্ভাব্য কারণ এবং তা কমানোর উপায়।
খাওয়ার পরপরই ক্ষুধা লাগার কারণ
প্রোটিনের ঘাটতি: শুধু ভাত বা রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি নাও থাকতে পারে। তাই খাবারে ডাল, মাছ, ডিম বা মুরগির মাংসের মতো প্রোটিনের উৎস রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ফাইবার কম খাওয়া: খাবারে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকলেও দ্রুত ক্ষুধা লাগতে পারে। ফাইবার খাবারের পরিমাণ ও তৃপ্তির অনুভূতি বাড়াতে এবং হজমপ্রক্রিয়া ধীর করতে ভূমিকা রাখে।
অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট: বিস্কুট, সাদা পাউরুটিসহ অতিরিক্ত পরিশোধিত ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে। এর পরিবর্তে কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও ফাইবার সমন্বয় করে খাওয়া উপকারী হতে পারে।
খুব দ্রুত খাবার খাওয়া: খাবার খাওয়ার পর পেট ভরে যাওয়ার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। তাই দ্রুত না খেয়ে ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। এতে শরীরের তৃপ্তির সংকেত বোঝা সহজ হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া: অনেক সময় শরীরে পানির ঘাটতিকে ক্ষুধা হিসেবে মনে হতে পারে। তীব্র তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করা উচিত।
ঘুমের অভাব: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে মিষ্টি ও বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়তে পারে।
ক্ষুধা নাকি অন্য কোনো তাগিদ?
সব সময় পেটের ক্ষুধা থেকেই খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয় না। মানসিক চাপ, একঘেয়েমি কিংবা অভ্যাসগত আচরণের কারণেও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। এমনকি ভারী খাবার খাওয়ার পরও এমনটি ঘটতে পারে।
তাই খাবার নেওয়ার আগে কিছুক্ষণ থেমে নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—সত্যিই কি ক্ষুধা লেগেছে, নাকি শুধু হালকা কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে?
খাবারের পর দ্রুত ক্ষুধা কমানোর উপায়
বারবার বেশি খাবার খাওয়ার পরিবর্তে প্রতিদিনের খাবারকে সুষম করার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। প্রোটিনের সঙ্গে পরিমিত কার্বোহাইড্রেট, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয়ে খাবার তৈরি করা এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া খাবার ধীরে ধীরে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সুষম খাবার খাওয়ার পরও যদি নিয়মিত ও তীব্র ক্ষুধা অনুভূত হতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
‘অ্যাডিক্টিভ বিহেভিয়ার্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, খাবারের পর তীব্র আকাঙ্ক্ষা এড়ানোর কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো কার্বোহাইড্রেট অতিরিক্ত বাদ না দিয়ে সুষম ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবারও মিষ্টি ও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে পারে। তাই প্রোটিনের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে জটিল কার্বোহাইড্রেট রাখলে এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
জ/উ